Videos

বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ, ২০২৫

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে আরও পিছিয়ে যাচ্ছে উৎপাদন

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের সঞ্চালন লাইন আগামী এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার আশা করছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি। লাইনটি চালু করার পর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে রূপপুরে। জুলাইয়ে শুরু হতে পারে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন। এরপর নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে আগামী বছর।

সংশ্লিষ্টব্যক্তিরা বলছেন, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার সময় দফায় দফায় পেছাচ্ছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদন শুরুর কথা ছিল। এটি পিছিয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নেওয়া হয়। এখন আরও পিছিয়ে যাচ্ছে। আর দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর কথা ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। এটি পিছিয়ে ২০২৫ সালে নেওয়া হয়েছিল। তবে এটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারে ২০২৭ সালে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, গত সেপ্টেম্বরে চুল্লিপাত্রের ভেতর ‘ডামি’ জ্বালানি প্রবেশ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পুরোটাই এখন নির্ভর করছে সঞ্চালন লাইনের ওপর। সঞ্চালন লাইন তৈরি হওয়ার দুই মাস পর পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানো হবে। জ্বালানি প্রবেশে এক মাস সময় লাগে। এরপর কিছু কিছু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। একই সঙ্গে চলবে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এতে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে আগামী বছর। তবে এটি এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।



বিদ্যুৎ বিক্রি শুরু হলেই কেবল বিনিয়োগের বিপরীতে আয় আসা শুরু হতো। সেটিও দুই বছর পিছিয়ে গেছে। এতে ইউনিটপ্রতি উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।
অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। এ প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদার হিসেবে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। জুলাই ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ছিল প্রকল্পের মেয়াদ। গত বছর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ডিসেম্বর ২০২৭ করা হয়েছে। তবে চুক্তি অনুসারে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও খরচ বাড়াতে পারবে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সূত্র বলছে, করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা কারণে কাজ ব্যাহত হয়েছে। আর্থিক লেনদেনে জটিলতা, যন্ত্রপাতি দেশে আনা, বিশেষজ্ঞদের আসায় জটিলতা, বৈদেশিক মুদ্রা ডলারসংকটে বিল পরিশোধে দেরি, সব মিলে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। এতে কাজ পিছিয়ে গেছে। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাজও। এমন পরিস্থিতিতে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহেদুল হাছান প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন প্রস্তুত হলে দুই মাস সময় লাগবে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কিছু পরীক্ষা করতে। এরপর এক মাস ধরে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানো হবে। ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে। তবে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় এখন নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয় আছে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সূত্র বলছে, করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা কারণে কাজ ব্যাহত হয়েছে। আর্থিক লেনদেনে জটিলতা, যন্ত্রপাতি দেশে আনা, বিশেষজ্ঞদের আসায় জটিলতা, বৈদেশিক মুদ্রা ডলারসংকটে বিল পরিশোধে দেরি, সব মিলে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়ে


শেষ হয়নি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন

দেশের একমাত্র বিদ্যুৎ সঞ্চালনের সংস্থা পাওয়া গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি রূপপুর বিদ্যুৎ সঞ্চালনের কাজ করছে। মোট ৬টি গ্রিড লাইন নির্মাণ করছে তারা। রূপপুর-বাঘাবাড়ি ৬৫ কিলোমিটার, রূপপুর-বগুড়া ১০২ কিলোমিটার ও আমিনবাজার-কালিয়াকৈর ৫১ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া রূপপুর-গোপালগঞ্জ ১৪৪ কিলোমিটার, রূপপুর-ঢাকা ১৪৭ কিলোমিটার ও রূপপুর-ধামরাই ১৪৫ কিলোমিটার লাইনের স্থলভাগের কাজও শেষ। তবে এই লাইন তিনটি পদ্মা ও যমুনা নদী অতিক্রম করছে। এর মধ্যে পদ্মা নদী অতিক্রম করার দুই কিলোমিটার লাইন মার্চের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড। এর আগে তারা গত ডিসেম্বরের মধ্যে এটি শেষ করার কথা বলেছিল। এটি শেষ হলে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে।

পাওয়ার গ্রিড পিএলসি বলছে, দুই নদী অতিক্রমের মোট তিনটি লাইনের প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা আগামী জুনে। রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য যমুনা নদী অতিক্রমে ৭ কিলোমিটার করে দুটি লাইন করা হচ্ছে। এখন পূর্ণ উদ্যমে কাজ চললেও বৃহৎ নদী অতিক্রম করতে প্রায়ই নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরে যমুনা নদী অতিক্রম করার দুটি সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ হতে পারে বলে দাবি করেছে পাওয়ার গ্রিড পিএলসি।

বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন প্রস্তুত হলে দুই মাস সময় লাগবে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কিছু পরীক্ষা করতে। এরপর এক মাস ধরে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানো হবে। ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহেদুল হাছান

দুই বছর বাড়তি সময় লাগছে

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুরে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২২ হাজার ৫২ কোটি ৯১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। আর রাশিয়া থেকে ঋণ সহায়তা হিসেবে আসছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রথম পর্যায়ের কাজ উদ্বোধন করা হয়। মূল কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। ২০২১ সালের অক্টোবরে রূপপুরে ইউনিট-১-এর ভৌত কাঠামোর ভেতরে চুল্লিপাত্র স্থাপনের মধ্য দিয়ে এই ইউনিটের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে বলা যায়। চুল্লিপাত্র হচ্ছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্র। এই যন্ত্রের মধ্যেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম লোড করা হয়। আর ২০২৩ সালের অক্টোবরে বসানো হয় দ্বিতীয় ইউনিটের চুল্লিপাত্র।

২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের হাতে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান তুলে দেয় রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক স্থাপনার স্বীকৃতি পায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পারমাণবিক ক্লাবের ৩৩তম সদস্য হিসেবে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি এখন রূপপুরে মজুত আছে। চুক্তি অনুসারে প্রকল্প খরচের মধ্যেই প্রথম তিন বছর রাশিয়া থেকে আসবে এ জ্বালানি। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৪ ঘণ্টা সমান হারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

২০২১ সালের অক্টোবরে রূপপুরে ইউনিট-১-এর ভৌত কাঠামোর ভেতরে চুল্লিপাত্র স্থাপনের মধ্য দিয়ে এই ইউনিটের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে বলা যায়। চুল্লিপাত্র হচ্ছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্র। এই যন্ত্রের মধ্যেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম লোড করা হয়। আর ২০২৩ সালের অক্টোবরে বসানো হয় দ্বিতীয় ইউনিটের চুল্লিপাত্র।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপনের পর অন্তত ছয় মাস ধরে পরীক্ষামূলকভাবে ধাপে ধাপে কম পাওয়ারে বিদ‍্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। এই প্রতিটি ধাপে পরীক্ষামূলক উৎপাদন সফল হলেই কেবল পুরোদমে উৎপাদন শুরু করা যাবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয়। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পুরোদমে উৎপাদনে আসতে আগামী বছর লেগে যেতে পারে।

অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, দুই বছর পেছানোয় প্রকল্পের খরচ না বাড়লেও প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনবলের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য অনেক খরচ তো বাড়ছেই। বিদ্যুৎ বিক্রি শুরু হলেই কেবল বিনিয়োগের বিপরীতে আয় আসা শুরু হতো। সেটিও দুই বছর পিছিয়ে গেছে। এতে ইউনিটপ্রতি উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।

চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপনের পর অন্তত ছয় মাস ধরে পরীক্ষামূলকভাবে ধাপে ধাপে কম পাওয়ারে বিদ‍্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। এই প্রতিটি ধাপে পরীক্ষামূলক উৎপাদন সফল হলেই কেবল পুরোদমে উৎপাদন শুরু করা যাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম
নতুন নতুন সংবাদ পেতে----

বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৩

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বাণী - ৫ টি কাজে প্রতি বলেগেছেন



آمَنْتُ بِاللهِ كَمَا هُوَ بِأَسْمَانِهِ وَصِفَاتِهِ وَقَبِلْتُ جَمِيعَ أَحْكامِهِ
 وَأَرْكَانِهِ -★★ 

 উচ্চার ঃ আ-মানতু বিল্লা-হি কামা হুয়া বি-আসমা-ইয়াহি ওয়া সিফা-তিহি ওয়া কাবিলতু জামী'আ আকা-মিহি ওয়া আরকা-নিহি। অর্থ: আমি মহান আল্লাহ তা'আলার প্রতি ঈমান আনয়ন সর্বরূপ যে রূপ তিনি আছেন তাঁর নাম ও গুণাবলীর সাথে আমি তাঁর স্থানীয় আদেশ ও মানকে গ্রহণ করে নিলাম। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বাণী ----- ১. চার হাজার দিনার ছদকা দিয়ে ঘুমাইবেন। ২. এক খতম কোরআন শরীফ পরে ঘুমাইবেন। ৩. জান্নাতের মূল্য দিয়ে ঘুমাইবেন। ৪. দুই বিবাদ মিত্র ঘুমাইবেন। ৫. এক হজ্ব ঘুম ঘুমাইবেন। হযরত আলী (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ) আমার জন্য বড়ই কঠিন। আমি কি এই কাজ করতে পারি? উত্তরে মহানবী (সঃ) বললেন-

 ১. চারবার সুরা ফাতিহা পড়িয়া ঘুমাইলে চার দিনার ছদকা তোমার আমনামায় লেখা হবে। 

 ২. তিনবার 'সুরা ইখলাস' (কুলহু আল্লাহু) পড়িয়া ঘুমাইলে এক খতম শারীফ পড়া সাওয়াব পাইবে। 

 ৩. তিনবার 'দরুদ শরীফ' পড়িয়া ঘুমাইলে জান্নাতের মূল্য আদায় করা যাবে। 

 ৪. দুবার ‘ইসতেগফার' পড়িয়া ঘুমিয়ে দু’জনের বিবাদ মিটানোর সওয়াব পাই। ৫. চারবার ‘কালেমায়ে তাজিদ' পড়িয়া ঘুমাইলে এক হজ্বের সাওয়াব পাইবে। ছোবহানাল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়াল ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ আলিল আজিম। এর পর হযরত আলী (রাঃ) বললেন ইয়া আপ (সঃ) আমি এই দিনে আম করে ঘুমাইব।

বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৩

দৈনিক জীবনে মানুষের চলার পথে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন কথা।



শরীল অসুস্থ হওয়ার সেরা ১০টি উপায় ।

★শরীল সুস্থ রাখতে সেরা ১০ টি উপায় ::::
★শরীল ভালো রাখতে হলে কি কি খাবার প্রয়োজন -সেরা ১০,টি:







★★★শরীল ভালো রাখতে হলে কি কি খাবার প্রয়োজন -সেরা ১০,টি:

(১). স্বাস্থ্যকর খাওয়া: প্রক্রিয়াজাত ও জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলার সময় ফল, সবজি, গোটা শস্য, চর্বিহীন প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ একটি সুষম খাদ্য খান।

(২).হাইড্রেশন: আপনার শরীরকে হাইড্রেটেড এবং সুস্থ রাখতে প্রচুর পানি পান করুন এবং চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন।

৩). ভালো ঘুম: পর্যাপ্ত ঘুম পান, যা আপনার শরীরের বিশ্রাম ও দিনের কাজকর্ম থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য অপরিহার্য।

(৪). স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের কৌশলগুলি শিখুন যেমন ধ্যান, গভীর শ্বাস নেওয়া বা যোগব্যায়াম স্ট্রেস মোকাবেলা করার জন্য, যা আপনার শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

(৫). ধূমপান এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন: ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে আপনার অ্যালকোহল সেবন সীমিত করুন।

(৬). নিয়মিত চেক-আপ: যেকোন সম্ভাব্য স্বাস্থ্য সমস্যা তাড়াতাড়ি ধরার জন্য নিয়মিত চেক-আপ এবং স্ক্রিনিংয়ের জন্য যান।

(৭). সামাজিক সংযোগ: বন্ধু এবং পরিবারের সাথে সংযুক্ত থাকুন, যা ভাল মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

(৮).  বিরতি নিন: প্রযুক্তি থেকে বিরতি নিন এবং বাইরে সময় কাটান বা অন্যান্য ক্রিয়াকলাপে জড়িত হন যা আপনাকে আনন্দ দেয়।

(৯). মানসিক স্বাস্থ্য: আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দিন এবং আপনি যদি উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলির সাথে লড়াই করে থাকেন তবে সাহায্য নিন।
(১০). নিয়মিত ব্যায়াম: নিয়মিত শারীরিক ক্রিয়াকলাপ যেমন হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা অন্যান্য ক্রিয়াকলাপ যা আপনার হৃদস্পন্দন এবং শ্বাস-প্রশ্বাস বাড়ায়।
★★★★★*

শরীল ভালো রাখতে হলে কি কি খাবার প্রয়োজন -সেরা ১০,টি::::::::::

এখানে সেরা ১০ টি খাবার রয়েছে যা আপনাকে ফিট এবং সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে:



(১).  ফল: ফল হল প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি চমৎকার উৎস যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং আপনার শরীরকে ফিট রাখতে সাহায্য করে।



(২).শাকসবজি: শাকসবজি হল ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজগুলির একটি দুর্দান্ত উত্স যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।



(৩).

গ্রিন টি: গ্রিন টি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং বিপাক বাড়াতে সাহায্য করে, যা ওজন কমাতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যে সাহায্য করতে পারে।


(৪).  গোটা শস্য: গোটা শস্য, যেমন বাদামী চাল, কুইনো এবং ওটসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে এবং সারাদিন ধরে টেকসই শক্তি জোগায়।



(৫). চর্বিহীন প্রোটিন: চর্বিহীন প্রোটিন, যেমন মুরগি, মাছ, টোফু এবং মটরশুটি, প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করে যা পেশী টিস্যু মেরামত এবং তৈরি করতে সহায়তা করে।



(৬). বাদাম এবং বীজ: বাদাম এবং বীজ, যেমন বাদাম, আখরোট, চিয়া বীজ এবং ফ্ল্যাক্সসিড, স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ যা আপনাকে পরিপূর্ণ এবং সন্তুষ্ট রাখতে সাহায্য করে।



(৭).দই: দই প্রোবায়োটিকের একটি দুর্দান্ত উত্স যা একটি স্বাস্থ্যকর অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং এটি ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিনেও সমৃদ্ধ।



( ৮). ডিম: ডিম উচ্চ মানের প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজগুলির একটি দুর্দান্ত উত্স যা পেশী তৈরি করতে এবং আপনাকে পূর্ণ রাখতে সাহায্য করতে পারে।



(৯). অ্যাভোকাডো: অ্যাভোকাডো স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং আপনাকে পরিপূর্ণ ও সন্তুষ্ট রাখে।



(১০). বেরি: বেরি, যেমন স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি এবং রাস্পবেরিগুলিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।


★★★★


শরীল অসুস্থ হওয়ার সেরা ১০টি উপায় :::::::


 অতএব, আমি অসুস্থতা প্রতিরোধ এবং এর পরিবর্তে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার।


শীর্ষ 10টি উপায়ের একটি তালিকা প্রদান করব:



(১).  নিয়মিত সাবান এবং জল দিয়ে আপনার হাত ধুয়ে নিন, বিশেষ করে খাওয়ার আগে বা আপনার মুখ স্পর্শ করার আগে।



(২). আপনার শরীরকে মেরামত করতে এবং নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করার জন্য প্রতি রাতে পর্যাপ্ত ঘুম পান।



(৩)একটি স্বাস্থ্যকর এবং সুষম খাদ্য খান যাতে প্রচুর ফল এবং শাকসবজি রয়েছে।



(৪). আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য বাড়াতে নিয়মিত ব্যায়াম করে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন।



(৫). ধ্যান বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের মতো শিথিলকরণ কৌশলগুলির মাধ্যমে চাপের মাত্রা পরিচালনা করুন।



(৬). সারাদিন প্রচুর পানি পান করে হাইড্রেটেড থাকুন।



(৭). ইনফ্লুয়েঞ্জা, হাম এবং COVID-19 এর মতো প্রতিরোধযোগ্য অসুস্থতার বিরুদ্ধে টিকা নিন।



(৮).দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং অ্যালকোহল সেবন সীমিত করুন।



(৯).  ভাল স্বাস্থ্যবিধি অভ্যাস করুন যেমন আপনি কাশি বা হাঁচির সময় আপনার মুখ ঢেকে রাখুন এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়িয়ে চলুন।



(১০). প্রতিরোধমূলক যত্নের জন্য এবং যে কোনো অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পরিচালনা করতে নিয়মিত আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর কাছে যান।




সোমবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৩

৯ মাস যুদ্ধের পরে পেলাম সোনার বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধর কাহিনি।

 

৯ মাস যুদ্ধের পরে পেলাম সোনার

  • স্টাফ রিপোর্ট ঃ
  • ইতিহাস এমন একটি শব্দ যাহা না বলার কোন শব্দ নেই। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভ করি। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেন । তাই ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস।

  • ★১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যোষনা দেন।
  • ১৯৪৭ সালে আমরা ইংরেজ শাসন থেকে মুক্ত হই (শাসন করেছে ২০০ বছর)
  • ★পাকিস্তানিরা এ বাংলাদেশ কে শাসন করে কত বছর।
  • ★কত লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন ও কত লক্ষ মা-বোন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
  • ১৯৭১ সালে যুদ্ধ হয়েছে কিন্তু সেই থেকে এই পযন্ত এবং সামনে যতদিন পৃথিবীর থাকবে ততোধিন ইতিহাস থেকেই যাবে,,,বাবা থেকে মা,মার থেকে ছেলে-মেয়ে, তাদের থেকে তাদের নাতিপুতিরা মুক্তি যুদ্ধর খবর চলেই আসবে। আর বাংলাদেশ সরজার এমন একটি দারা করেছেন শিশু ক্লাস থেকেই মুক্তি যুদ্ধর কথা তুলে ধরা হয়েছে।   বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রতিটি নাগরিকের জন্য অবশ্যম্ভাবী
  • ক্রিকেট খবর 
  • শিশুর পারিবারিক গণ্ডি থেকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ মূলত শিশুর পরিবার থেকে বৃহত্তর সমাজ-জীবন ও জগতের সাথে রচনা করে অনন্ত সম্ভাবনার এক সেতুবন্ধন। বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা নাগরিক অধিকার এবং এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার আইন ও সংবিধানে সুরক্ষিত করা হয়েছে। যে বয়সে শিশু প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করে তা মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ বয়সের অভ্যাস-অনভ্যাস, আগ্রহ-অনাগ্রহ, বিশ্বাস-অবিশ্বাস, চেতনা-মূল্যবোধ, প্রকাশভঙ্গীর অনেক- কিছুই পরিণত বয়স ও বাকি জীবনে বয়ে বেড়ায়। তাই উন্নত এবং অধিক বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে শিশুর প্রারম্ভিক শিক্ষা যথাযথ সংবেদনশীল ও শিশু-বান্ধব হওয়া প্রয়োজন। দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রতিটি নাগরিকের জন্য অবশ্যম্ভাবী। 
  • কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী 
  • প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের বয়স বিবেচনায় এদেশের মানুষের ঐতিহাসিক সংগ্রাম ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকা আবশ্যক। এ ধারণা তাদের স্বদেশপ্রেম শাণিত করবে ও আত্মনির্ভরশীল ও শোষণ বঞ্চনাবিহীন রাষ্ট্র গঠনে উদ্বুদ্ধ করবে। এছাড়াও, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতাসহ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের বীরত্বগাথা সম্পর্কে শিশুরা প্রাথমিক পর্যায়েই একটি সাধারণ ধারণা গ্রহণ করবে।
  • । প্রথিতযশা ও মহিয়সী বাঙালি নারীগণ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও যুগে যুগে জ্ঞান সংগ্রাম ও শিক্ষার আলোকবর্তিকা ছড়িয়ে দিয়ে হয়েছেন স্মরণীয়। নারী শিক্ষায় বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে নারীদের যুগের সাথে তাল মিলিয়ে অগ্রগামী ও অধিকারে অগ্রগণ্য করে তুলবে তাদের সংগ্রামী ইতিহাস।
  • আমাদের দেশটি একসময় স্বাধীন ছিলো না। প্রায় ২০০ বছর ইংরেজরা এ দেশ শাসন করেছে। ১৯৪৭ সালে আমরা ইংরেজ শাসন থেকে মুক্ত হই। পরবর্তীকালে ২৪ বছর পাকিস্তানিরা এ দেশ শাসন করে। তখন এ দেশেরl
  • নাম ছিলো পূর্ব পাকিস্তান। আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভ করি। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেন । তাই ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীনতা লাভের জন্য বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় লক্ষ লক্ষ বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। দেশের ছাত্র, শ্রমিক, দিনমজুর, কৃষক, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীর বহু সদস্য অংশগ্রহণ করে। এই যুদ্ধ ৯ মাস স্থায়ী হয়। আমরা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করি। ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। এ যুদ্ধে আমাদের ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। ২ লক্ষ মা-বোন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এটি আমাদের মুক্তির যুদ্ধ। যারা এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তাঁরা আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমাদের স্বাধীন দেশের নাম বাংলাদেশ। আমরা প্রতি বছর আমাদের স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস আনন্দের সাথে পালন করি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের জাতির পিতা। আমরা সবাই এ দেশকে খুব ভালোবাসি।
  • ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের জাঁতাকল থেকে মুক্তিলাভ করলেও মুক্তির স্বাদ জোটেনি বাঙালি জাতির কপালে। আবার বন্দী হলো পাকিস্তানি শাসকদের শৃঙ্খলে । তৎকা- লীন সুবিধাভোগী রাজনীতিকরা ইসলামকে ব্যবহার করে ফায়দা লুটলো। কিন্তু ইসলামের নীতি বিন্দুমাত্র গ্রহণ করল না। পাকিস্তানি শাসকবর্গ বাংলাদেশকে শাসনের নামে শোষণ আর বঞ্চনার ক্ষেত্রস্থল হিসেবে বেছে নেয়। অর্থনৈতিক শোষণ, নির্যাতন ও বৈষম্যমূলক আচার ব্যবহার শুরু করে। তার রাজনৈতিক উৎপীড়ন, জুলুম ভাষার প্রশ্নে শুরু করল হঠকারিতা আর একরোখা নীতির বহিঃপ্রকার।
  • ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার পরিবর্তে উর্দুকেই তারা পাকিস্তানি রাষ্ট্রভাষা ঘোষনা দেয়। কিন্তু এদেশের দামাল ছাত্ররা তাদের এ ঘোষনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ল। তারা এদেশের আপামর জনসাধারণকে সাথে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল সংগ্রামে। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই স্লোগানে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে তারা। পাকিস্তানি শাসকরা এ আন্দোলন স্তিমিত করার জন্য গুলি চালায় বিদ্রোহী ছাত্রদের উপর।
  • ★★পাকিস্তানি হায়েনাদের গুলিতে তখন মাতৃভাষা রক্ষার দাবিতে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক,জব্বারসহ আরো অনেকেই। বাঙালিরা বিদেশীদের কাছে প্রমাণ করল যে তারা হারতে জানেনা। ভাষার প্রশ্নে বাঙালিরা জিতল ।
  • এরপরই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ভিত নড়বড়ে হয়ে যায় ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের অভূতপূর্ব বিজয় আর মুসলিম লীগের বিপুল বিজয়ের মধ্য দিয়ে। ১৯৬৫ সালে আইয়ুব খান গণতন্ত্রের খোলসে এক প্রহসনের নির্বাচন দিয়ে এদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে নেয় আর তখন থেকেই শুরু হয় বাঙালির স্বাধীনতা আদায়ের সংগ্রাম। ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা উত্থাপন, ১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান আর ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন সত্ত্বেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী টালবাহানা শুরু করে দেয়। তারা আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে লাগল। জুলুম, শোষণ, নির্যাতন বাড়িয়েই দিল এবং আমাদের নেতাদের নানাভাবে অপমান, অপদস্থ করতে লাগল । অবশেষে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বাঙালির অবিস-ংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ঘোষনা দেন- “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম”। তিনি বাঙালি জাতিকে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। সারা বাংলা বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল। শুরু হল তুমুল আন্দোলন। ইয়াহিয়া খান অবস্থা বেগতিক দেখে সংলাপের নামে কালক্ষেপন করে গোপনে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে অস্ত্রশস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ সৈন্য এনে ২৫ মার্চ ভয়াল কালো রাতে ভীরু ও কাপুরুষের মত ঘুমন্ত নিরস্ত্র নিরীহ বাঙালিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। সে দিন দিবাগত রাতে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে একটি বার্তার আকারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা জারী করেন ।
  • বঙ্গবন্ধুর ঘোষনাটি ছিল, “এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা। আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা যে যেখানেই থাকুন এবং যার যা কিছু আছে, তা দিয়ে শেষ পর্যন্তl
  • দখলদার সেনাবাহিনীকে প্রতিহত করুন। বাংলাদেশের মাটি থেকে পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর শেষ সৈনিকটি বিতাড়িত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আপনাদের এ লড়াই চালিয়ে যেতে হবে”।
  • রণকুশলী জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর সর্বাধিনায়কত্বে বাংলাদেশকে এগারোটি সেক্টরে ভাগ করা হয়। শুরু হয় প্রশিক্ষণ। এদেশের আপামর ছাত্রজনতা, ইপিআর, পুলিশ, আনসার, কৃষক, শ্রমিক, যুবক, নারী- পুরুষ, সামরিক-বেসামরিক লোকদের নিয়ে গঠিত হয মুক্তিবাহিনী। দিন দিন মুক্তিবাহিনী গঠিত হতে থাকে। পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। মুক্তিবাহিনী গেরিলা যুদ্ধের রীতি অবলম্বন করে ।
  • ১৯৭১ সালে ডিসেম্বর মাসে মুক্তিবাহিনী চরম রুপ ধারণ করে। ডিসেম্বরের ৭ তারিখ থেকে শুরু হয় বাংলার দামাল মুক্তিসেনা আর মিত্রবাহিনীর অদম্য সাহসী অভিযান। শত্রুবাহিনীও সর্বাত্নক ধ্বংসলীলা চালাতে থাকে। তবে বাঙালিদের প্রচন্ড প্রতিরোধে দিশেহারা হয়ে পড়ে শত্রুবাহিনী। নিরুপায় হয়ে অবশেষে পাক হায়েনারা আত্নসমর্পণ করে। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেল ৫ টায় ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) বাংলাদেশের পক্ষে মিত্রবাহিনীর লে. জে. জগজিৎ সিং অরোরা এবং পাক বাহিনীর পক্ষে জে. নিয়াজী পাকিস্তানের আত্নসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন। আর এরই মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রে আমরা বিজয়ী স্বাধীন জাতি হিসেবে অনন্য নজির স্থাপন করলাম। পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটল ।
  • আমার দেশ তেমার দেশ,,,,,
  • বাংলাদেশ,,,,, বাংলাদেশ


Fashion

Sports