Videos

রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৫

জেলা প্রশাসকের আশ্বাস, পঞ্চগড় আদালত চত্বর ছাড়ল বৈষম্যবিরোধীরা

জেলা প্রশাসকের আশ্বাস, পঞ্চগড় আদালত চত্বর ছাড়ল বৈষম্যবিরোধীরা


পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজসহ চার বিচারকের অপসারণের দাবিতে আদালত ঘেরাও, আদালতের মূল ফটকে তালা ও সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

আজ রোববার বেলা সোয়া দুইটায় আদালত চত্বরের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পঞ্চগড়। জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পর রাত ৮টার কিছু আগে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা।


নিয়োগ-বাণিজ্য, ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও হুমকির অভিযোগে গত বুধবার দুপুরের পর জেলা ও দায়রা জজসহ চার বিচারকের অপসারণের দাবিতে পঞ্চগড়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেখানে দাবি করা হয়, পঞ্চগড় আদালতের জেলা ও দায়রা জজ মো. গোলাম ফারুক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মণ্ডল, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুজ্জামান ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু হেনা সিদ্দিকী এখনো আওয়ামী লীগ সরকারের দোসরের ভূমিকা পালন করছেন। ওই দিন বিক্ষোভে এই চার বিচারককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের সময়সীমা বেঁধে দেন আন্দোলনকারীরা। বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ায় আজ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন বিক্ষোভকারীরা।




বিক্ষোভের শুরুতে আন্দোলনকারীরা আদালতের ভেতরে থাকা সাধারণ মানুষকে বের হয়ে যেতে মাইকে ঘোষণা দেন। এরপর বেলা ২টা ২০ মিনিটে আন্দোলনকারীরা আদালতের মূল ফটকসহ সীমানাপ্রাচীরের সব ফটকে শিকল পেঁচিয়ে তালা দেন। এতে আদালতের ভেতরে থাকা বিচারপ্রার্থীসহ অন্য লোকজন আদালত চত্বরে আটকা পড়েন। এমনকি কাজ থাকা সত্ত্বেও অনেকে বাইরে থেকে আদালতের ভেতর ঢুকতে পারেননি। এরপর বিক্ষোভকারীরা মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করতে থাকেন। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পঞ্চগড়ের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী, মোকাদ্দেসুর রহমানসহ অন্যরা অংশ নেন।



বিকেল সোয়া পাঁচটা পর্যন্ত আদালত চত্বরের ভেতরে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবীসহ আদালত–সংশ্লিষ্ট লোকজন আটকা ছিলেন। সড়ক অবরোধও চলছিল। এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির ইকবাল হোসাইন, পঞ্চগড় আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আদম সুফি আন্দোলনকারীদের ডেকে সমাধানের চেষ্টা করছিলেন। এরপর পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুনশি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী আদালত চত্বরে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত হতে কিছুটা সময় লাগে। তবে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সিদ্ধান্তটা আইন মন্ত্রণালয়ে সামারি হয়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে যায়। সিদ্ধান্ত হলো, অভিযোগ ওঠা চারজন বিচারক আগামীকাল থেকে পঞ্চগড় আদালতে কোনো বিচারকাজ করবেন না এবং তাঁরা এখান থেকে চলে যাবেন। আর আপনাদের যেসব অভিযোগ রয়েছে, তা লিখিত আকারে আমার কাছে দেবেন, আমি সেগুলো মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠাব।’

জেলা প্রশাসকের ঘোষণার পর আন্দোলনকারীরা আনন্দ মিছিল করতে করতে আদালত চত্বর ত্যাগ করেন। তবে ভাঙচুরসহ অন্যান্য ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে যেন কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তারও দাবি জানান। এ সময় জেলা প্রশাসক তাঁর ওপর আস্থা রাখতে বলেন।



নতুন নতুন সংবাদ পেতে----

শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৪

প্রধানমন্ত্রী খালেদাজিয়া জীবনের ইতিহাস সম্পর্কে



বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপার্সন। তার রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের আধুনিক রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। 

 প্রাথমিক জীবন
খালেদা জিয়া জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট, দিনাজপুর জেলার গাবতলী এলাকায়। তার বাবার নাম ছিলো ইস্কান্দার মজুমদার, যিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং মা তায়েবা মজুমদার। শৈশবে খালেদা জিয়া লেখাপড়া শুরু করেন বগুড়ায়। পরবর্তীকালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং এখানেই শিক্ষাজীবন শেষ করেন।

১৯৬০ সালে তার বিয়ে হয় জিয়াউর রহমানের সাথে, যিনি তখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা ছিলেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি হন। তার স্বামীর রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে সখ্যের কারণে খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে রাজনীতির দিকে আগ্রহী হন।



 রাজনৈতিক জীবন
১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপির অভ্যন্তরে বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হয়। সেই সময়ে দলের নেতৃবৃন্দ খালেদা জিয়াকে দলে যোগদানের আহ্বান জানান এবং ১৯৮২ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮৪ সালে খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন এবং তিনি দলের নেতৃত্বে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে থাকেন।

১৯৮০-এর দশকে সামরিক শাসন এবং এরশাদের ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় খালেদা জিয়া বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদ সরকারের পতন ঘটে, এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এই সময়ে খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা একত্রে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে এবং খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

 প্রধানমন্ত্রীত্ব
১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়া দেশের অর্থনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য প্রেসিডেনশিয়াল সিস্টেম থেকে পার্লামেন্টারি সিস্টেমে রূপান্তরের জন্য সংবিধান সংশোধন করে। এছাড়া, তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও নারীর ক্ষমতায়নে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তবে ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। ওই বছরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয় এবং ক্ষমতায় আসে। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি আবারও নির্বাচনে জয়লাভ করে এবং খালেদা জিয়া দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে খালেদা জিয়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হাতে নেন।

 রাজনৈতিক সংকট ও বিচারিক সমস্যা
২০০৬ সালের শেষের দিকে রাজনৈতিক সংকট দেখা দিলে বাংলাদেশে সামরিক সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা উভয়কেই দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করা হয়। তবে পরবর্তীতে তারা মুক্তি পান এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসেন।

২০১৮ সালে খালেদা জিয়া আবারও দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হন এবং তাকে বিভিন্ন মামলায় সাজা দেওয়া হয়। এই সময়ে তিনি নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। রাজনৈতিক জীবনের শেষদিকে তার শারীরিক অসুস্থতা তার কর্মক্ষমতাকে সীমিত করে ফেলে।

 ব্যক্তিগত জীবন
খালেদা জিয়া দুই পুত্র সন্তানের মা—তার বড় ছেলে তারেক রহমান এবং ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো। তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দলের নেতৃত্বে রয়েছেন। তবে, তারেক রহমান বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন। আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

 উত্তরাধিকার ও প্রভাব
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিহ্নিত। তার নেতৃত্বে বিএনপি দেশের একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং এখনও তিনি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম এবং নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম, সরকার পরিচালনা এবং দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তার অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।



নতুন নতুন সংবাদ পেতে----

শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৪

বাগেরহাট ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ ইতিহাস

 ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলা



দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শহর বাগেরহাটে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা, যা মুসলিম স্থাপত্যের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। ইউনেস্কো ১৯৮৩ সালে এই মসজিদটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করে। ষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানই নয়, এটি বাংলাদেশ এবং উপমহাদেশের প্রাচীন স্থাপত্য শিল্প ও ইসলামী ঐতিহ্যের এক অসাধারণ নিদর্শন।


 নির্মাণ এবং প্রতিষ্ঠা

ষাট গম্বুজ মসজিদটি ১৫শ শতকে নির্মাণ করেছিলেন খান জাহান আলী। খান জাহান আলী ছিলেন তৎকালীন মুসলিম শাসক এবং সুলতানি আমলে এই অঞ্চলের ধর্ম প্রচারক ও নেতা। তিনি খলিফা বা পীর হিসেবে সমাদৃত ছিলেন। ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, খান জাহান আলী সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের সেনাপতি ছিলেন এবং তার অধীনে কাজ করতেন। বাগেরহাট শহরকে তিনি তার ধর্মীয় ও প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন এবং এই শহরের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। ষাট গম্বুজ মসজিদটি খান জাহান আলীর অন্যতম বৃহৎ নির্মাণ প্রকল্প ছিল।

 

স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য

ষাট গম্বুজ মসজিদের মূল বৈশিষ্ট্য হল এর বিশাল আকৃতি এবং গম্বুজের অনন্য ডিজাইন। মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬০ ফুট এবং প্রস্থ ১০৮ ফুট। এর ভেতরের অংশটি ৭টি সারি এবং ১১টি কলাম দ্বারা বিভক্ত। পুরো মসজিদটি ৮১টি গম্বুজ দ্বারা আচ্ছাদিত, যা সাধারণত ষাট গম্বুজ নামে পরিচিত হলেও প্রকৃতপক্ষে গম্বুজ সংখ্যা ষাটের চেয়ে বেশি।  এই গম্বুজগুলো টেরাকোটা এবং ইটের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে। 


মসজিদের ছাদে ৭৭টি ছোট গম্বুজ এবং চার কোণায় বড় ৪টি গম্বুজ রয়েছে। ভেতরের ছাদে ৬০টি খিলান রয়েছে, যা মসজিদের নামকরণের কারণ হতে পারে। মসজিদের বাইরের দেয়ালগুলো পুরু এবং স্থাপত্যে বিশেষ বৈশিষ্ট্য যুক্ত করেছে। দেয়ালে ক্যালিগ্রাফি এবং খোদাই কাজের নিদর্শন আছে, যা সেই সময়ের মুসলিম স্থাপত্যের নিখুঁত দক্ষতা প্রকাশ করে।


 ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

ষাট গম্বুজ মসজিদ তৎকালীন সময়ে শুধু নামাজ আদায়ের স্থান ছিল না, বরং এটি ইসলাম প্রচারের একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল। খান জাহান আলী ধর্মীয় সম্প্রদায়কে একত্রিত করে মুসলিম সভ্যতা এবং সংস্কৃতির বিকাশে ভূমিকা রেখেছিলেন। এই মসজিদটি তার সময়ে একটি কেন্দ্রীয় মাদ্রাসা হিসেবে কাজ করত, যেখানে ধর্মীয় শিক্ষা, ইসলামিক আইন এবং সাহিত্য শিক্ষাদান করা হতো। মুসলিম শাসনকালে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের প্রধান কেন্দ্র ছিল এই মসজিদটি।


ঐতিহাসিক এবং পর্যটন মূল্য

ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশে অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিবছর হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক এই মসজিদটি দেখতে আসেন। মসজিদটির নির্মাণ শৈলী, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানুষকে আকৃষ্ট করে। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে এই মসজিদের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।


 সংরক্ষণ ও বর্তমান অবস্থা

ষাট গম্বুজ মসজিদ অনেক পুরানো হওয়ার কারণে এটি কিছুটা ঝুঁকির সম্মুখীন। তবে বাংলাদেশ সরকার এবং ইউনেস্কোর যৌথ প্রচেষ্টায় এই স্থাপনাটির রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংরক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে মসজিদটি ধীরে ধীরে সংস্কার করা হচ্ছে, যাতে এর ঐতিহাসিক গঠন এবং নান্দনিকতা অটুট থাকে। 


ষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু বাগেরহাট নয়, সমগ্র বাংলাদেশের একটি মহৎ ঐতিহ্যবাহী স্থান, যা প্রতিনিয়ত বাংলাদেশি জনগণ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে চলেছে।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪

পদ্মা সেতুতে যান চলাচল ব্যাহত,কোটা আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ-অবরোধ

 

পদ্মা সেতুতে যান চলাচল ব্যাহত,কোটা আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ-অবরোধ
পদ্মা সেতুতে যান চলাচল ব্যাহত,কোটা আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ-অবরোধ


সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার ও সারা দেশে হতাহতের ঘটনার বিচারের দাবিতে মুন্সিগঞ্জ শহর ও লৌহজংয়ে পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপির দুই নেতা ও আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। আহত হয়েছেন ১০ থেকে ১২ জন।

এ সময় পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত থেকে সেতুতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। প্রায় ৪০ মিনিট পর বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও শটগানের গুলি ছোড়ে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন শহর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব মাহবুবুল আলম, মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান ও আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থ


স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে জড়ো হন। আন্দোলনকারীরা পদ্মা সেতুর উত্তর থানার সামনের সড়কে বসে পড়েন। সে সময় আধা ঘণ্টার মতো পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা-ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশ আন্দোলনরত দুই শিক্ষার্থীকে আটক করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা পুলিশকে ধাওয়া দেন।

পুলিশ থানার ভেতরে গিয়ে অবস্থান নেয়। সে সময় থানা লক্ষ্য করে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ থানা থেকে বের হয়ে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দুপুর ১২টার দিকে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে আবারও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) জিয়াউল হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা পদ্মা সেতু উত্তর টোল প্লাজার মুখে খানবাড়ি এলাকায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ১০ থেকে ১২ মিনিট সেতুতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

অন্যদিকে মুন্সিগঞ্জ শহরের সুপারমার্কেট এলাকায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোটা সংস্কার ও সারা দেশে হতাহতের বিচারের দাবিতে ব্যানার নিয়ে কয়েক শ শিক্ষার্থী জড়ো হন। এ সময় তাঁরা কোটা সংস্কার, হতাহত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনের গায়েবানা জানাজায় দাঁড়ান ২০ থেকে ৩০ জন নেতা-কর্মী। নামাজ শুরু হতেই পুলিশ সেখান থেকে শহর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব মাহবুবুল আলম ও মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমানকে আটক করে।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাঁদের মতো করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। একপর্যায়ে শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে শিক্ষার্থীরা বসে পড়েন। পাশের একটি মার্কেটের সামনে শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাত হোসাইনের নেতৃত্বে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জড়ো হন। সেখানে স্লোগান দিতে থাকেন নেতা-কর্মীরা। শিক্ষার্থীরাও পাল্টা স্লোগান দিলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ক্রিকেট খেলায় ব্যবহৃত স্টাম্প ও কাঠের ডাসা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকেন। একই সময় পুলিশও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মারধর করে। পুলিশ ও ছাত্রলীগের পিটুনি থেকে বাঁচতে দৌড়াতে গিয়ে ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এ ছাড়া শহরের দোকানের দুই কর্মচারী ও স্থানীয় একটি অনলাইন টিভির সাংবাদিক কামরুল হাসানকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি শুরু হলে পাশে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও জড়ো হন। তাঁরা গায়েবানা জানাজা শুরু করেন। পুলিশ দুই বিএনপি নেতাকে আটক করে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে ওসি বলেন, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালালে পুলিশ তাঁদের রক্ষা করে।

মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার আসলাম খান বলেন, পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা বিশৃঙ্খলা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ এবং শটগানের গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।

শনিবার, ২০ মে, ২০২৩

শাজাহান ও মমতাজ এর ভালোভাসার কাহিনি সকল বিস্তারিত

শাজাহান ও মমতাজ 

শাহজাহান এবং মমতাজ মহলের প্রেমকাহিনী ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি কাহিনী।  1628 থেকে 1658 সাল পর্যন্ত ভারতের মুঘল সম্রাট শাহজাহান এবং তার প্রিয়তমা স্ত্রী মুমতাজ মহল একটি বন্ধন ভাগ করে নিয়েছিলেন যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হৃদয়কে মুগ্ধ করেছে।

শাহজাহান আরজুমান্দ বানু বেগমের গভীর প্রেমে পড়েছিলেন, যিনি পরে মমতাজ মহল নামে পরিচিত হন।  তারা তাদের যৌবনে মিলিত হয়েছিল এবং একটি তাত্ক্ষণিক সংযোগ তৈরি করেছিল।  মমতাজ মহল তার সৌন্দর্য, বুদ্ধিমত্তা এবং করুণার জন্য বিখ্যাত ছিল।  তিনি সম্রাটের প্রিয় স্ত্রী হয়ে ওঠেন, এবং তাদের ভালবাসা প্রতিটি ক্ষণস্থায়ী দিনের সাথে আরও শক্তিশালী হতে থাকে।

মমতাজ মহল তার শাসনামলে শাহজাহানের পাশে দাঁড়ান, তাকে নির্দেশনা ও সমর্থন প্রদান করেন।  তিনি তার আনুগত্য এবং ভক্তি প্রদর্শন করে তার সামরিক অভিযান এবং রাজনৈতিক যাত্রায় তার সাথে ছিলেন।  কথিত আছে যে শাহজাহান তার মতামতকে অনেক মূল্য দিতেন এবং তাকে তার বিশ্বস্ত আস্থাভাজন হিসেবে বিবেচনা করতেন।

1631 সালে মমতাজ মহল তাদের 14 তম সন্তানের জন্ম দেওয়ার সময় মারা গেলে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।  শাহজাহান তার অকাল মৃত্যুতে বিধ্বস্ত হয়েছিলেন এবং তাকে ছাড়া তার পৃথিবী ভেঙে পড়েছিল।  তাদের ভালবাসাকে অমর করে রাখার জন্য, তিনি ভারতের আগ্রায় তাজমহল, একটি দুর্দান্ত মার্বেল সমাধি নির্মাণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

তাজমহল নির্মাণ শেষ হতে 20 বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল, হাজার হাজার কারিগর এবং কারিগর নিযুক্ত হয়েছিল।  এটি একটি স্থাপত্য বিস্ময় এবং চিরন্তন প্রেমের প্রতীক হিসাবে দাঁড়িয়েছে।  সাদা মার্বেল কাঠামো, জটিল খোদাই এবং মূল্যবান রত্নপাথর দ্বারা সজ্জিত, মমতাজ মহল এবং শাহজাহানের সমাধি রয়েছে।

মমতাজ মহলের প্রতি শাহজাহানের ভালোবাসা তাজমহলের অপূর্ব সৌন্দর্য ও মহিমায় স্পষ্ট।  কাঠামোটি তাদের চিরস্থায়ী বন্ধনের একটি প্রমাণ এবং তার ক্ষতির জন্য তার দুঃখের গভীরতার প্রতিনিধিত্ব করে।  তাজমহল তখন থেকে একটি আইকনিক ল্যান্ডমার্ক এবং একটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হয়ে উঠেছে, যা সারা বিশ্ব থেকে লক্ষ লক্ষ দর্শকদের আকর্ষণ করে যারা শাহজাহান এবং মুমতাজ মহলের শাশ্বত প্রেমের গল্পের সাক্ষী হতে আসে।

তাদের প্রেমের গল্প কবি, লেখক এবং শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করেছে এবং সারা বিশ্ব জুড়ে মানুষের কল্পনাকে ধরে রেখেছে।  শাহজাহান এবং মমতাজ মহলের গল্প একটি অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে যে প্রেমের কোন সীমা নেই এবং এটি সময় এমনকি মৃত্যুকেও অতিক্রম করতে পারে

শনিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৩

রমজানের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে আলোচনা।

রমজানের ফজিলত ও আমল

বিশ্বের মুসলিম প্রানে অহংকার একটি মাস সেটি হলো রমজান মাস।এ মাসে ফজিলত আল্লাহর তালা নিজের হাতে দিয়ে থাকবে উমওতদের

রমজান হল ইসলামিক ক্যালেন্ডারে একটি পবিত্র মাস, যে সময়ে মুসলমানরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার, স্ব-শৃঙ্খলা অনুশীলন করার এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উপায় হিসাবে উপবাস করে।  এখানে রমজানের সাথে সম্পর্কিত কিছু ফজিলত ও আমল রয়েছে:


১. রোজা: মুসলমানরা রমজানের দিনের আলোতে রোজা রাখে, খাবার, পানীয় এবং অন্যান্য শারীরিক চাহিদা থেকে বিরত থাকে।  আত্মসংযমের এই কাজটি আত্ম-শৃঙ্খলা এবং আধ্যাত্মিক সচেতনতা বিকাশে সহায়তা করে।


২. দাতব্য: রমজান হল বর্ধিত উদারতা এবং দাতব্য দানের সময়।  মুসলমানদের দরিদ্র ও অভাবীদের দান করতে এবং দাতব্য কারণগুলিকে সমর্থন করতে উত্সাহিত করা হয়।

৩. প্রার্থনা: মুসলমানদেরকে রমজান মাসে পৃথকভাবে এবং জামাতে তাদের প্রার্থনা বাড়াতে উত্সাহিত করা হয়।  তারাবীহ নামায, রমজান মাসে দেওয়া একটি বিশেষ প্রার্থনা, বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।


৪. কুরআন তেলাওয়াত: রমজান কুরআন তেলাওয়াত এবং প্রতিফলন বৃদ্ধির একটি সময়।  মুসলমানদেরকে কুরআন পড়তে এবং অধ্যয়ন করতে এবং এর শিক্ষাগুলিকে গভীরভাবে বোঝার জন্য উত্সাহিত করা হয়।


৫. ক্ষমা: রমজান হল ক্ষমা চাওয়ার এবং অন্যদের সাথে মিলনের একটি সময়।  মুসলমানদের অন্যদের ক্ষমা করতে, তারা যাদের অন্যায় করেছে তাদের কাছ থেকে ক্ষমা চাইতে এবং প্রয়োজনে সংশোধন করতে উত্সাহিত করা হয়।

ইসলামি বিষয় সকল পরামর্শ পেতে 


৬. আত্ম-প্রতিফলন: রমজান হল আত্মদর্শন এবং আত্ম-প্রতিফলনের সময়।  মুসলমানদের তাদের চিন্তাভাবনা এবং কর্মের মূল্যায়ন করতে, উন্নতির জন্য ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করতে এবং বৃহত্তর নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশের জন্য প্রচেষ্টা করতে উত্সাহিত করা হয়।


সামগ্রিকভাবে, রমজান হল ভক্তি, আত্ম-শৃঙ্খলা এবং সমবেদনা বৃদ্ধির একটি সময়।  উপবাস, প্রার্থনা, দাতব্য, এবং আত্ম-প্রতিফলনের মাধ্যমে, মুসলমানরা আল্লাহর সাথে তাদের সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে এবং একটি পুণ্যময় ও পরিপূর্ণ জীবন যাপনের জন্য তাদের অঙ্গীকারকে গভীর করতে চায়।
রমজানের ফজিলত ও আমল


রমজানের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে রাসুল (সা:)::

আমাদের শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সা:) যাকে না বানালে পৃথিবীর তৈরি করতো না-
হ্যাঁ, রমজানের ফজিলত বর্ণনা করে এমন অনেক হাদিস রয়েছে যা নবী মুহাম্মাদ (সা.) উল্লেখ করেছেন।  এর মধ্যে কয়েকটি হাদীসের মধ্যে রয়েছে:
"যখন রমজান মাস শুরু হয়, বেহেশতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদেরকে শৃঙ্খলিত করা হয়।"  (সহীহ বুখারী)


"যে ব্যক্তি রমজান মাসে একনিষ্ঠ ঈমানের সাথে এবং আল্লাহর সওয়াব লাভের আশায় রোজা রাখবে, তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।"  (সহীহ বুখারী)


"যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশায় রমজানে (নামাজে) দাঁড়ায়, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।"  (সহীহ বুখারী)


"রোজা হল একটি ঢাল যা দিয়ে একজন বান্দা নিজেকে আগুন থেকে রক্ষা করে।"  (সহীহ বুখারী)


"জান্নাতে আর-রাইয়ান নামক একটি দরজা আছে, কিয়ামতের দিন রোজাদাররা তা দিয়ে প্রবেশ করবে এবং তারা ছাড়া আর কেউ তা দিয়ে প্রবেশ করবে না। বলা হবে, যারা রোজা পালন করত তারা কোথায়?  '  তারা উঠবে এবং তারা ছাড়া আর কেউ এর মধ্য দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাদের প্রবেশের পর দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং তা দিয়ে কেউ প্রবেশ করবে না।"  (সহীহ বুখারী)


এই হাদিসগুলো রমজানে রোজা পালনের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক উপকারিতা তুলে ধরে।  রোজা মুসলমানদের তাদের বিশ্বাস বৃদ্ধি করতে, তাদের পাপের জন্য ক্ষমা চাইতে এবং আল্লাহর সাথে তাদের সংযোগ শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।  এটি আগুন থেকে সুরক্ষার একটি উপায় এবং পরকালে পুরস্কারের উত্সও বটে


শনিবার, ১ এপ্রিল, ২০২৩

ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা ওমর ফারুকের জীবন কাহিনি। OTHORATV24.COM

 

হযরত উমর ফারুকের জীবন কাহিনি 

হযরত উমর ফারুকের জীবন পরিচয় বিবারন-

হযরত ওমর ফারুক, যিনি উমর ইবনুল খাত্তাব নামেও পরিচিত, তিনি ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা এবং ইসলামী ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।  তিনি ৫৮৬ খ্রিস্টাব্দে মক্কায় কুরাইশ গোত্রের বনু আদি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন।  ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে, ওমর ধর্মের প্রচণ্ড বিরোধী ছিলেন এবং এর অনুসারীদের নিপীড়ন করেছিলেন।

৬১৬ খ্রিস্টাব্দে, ওমর তার বোনের স্বামীর দ্বারা কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করার পরে ইসলাম গ্রহণ করেন।  তিনি অবিলম্বে মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন সক্রিয় সদস্য হয়ে ওঠেন এবং মক্কায় কাবার সামনে প্রকাশ্যে প্রার্থনাকারী প্রথম মুসলমানদের একজন।

৬৩২ খ্রিস্টাব্দে নবী মুহাম্মদের মৃত্যুর পর ওমর ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা নিযুক্ত হন।  তার শাসনামলে, তিনি সাসানিদ সাম্রাজ্য এবং বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের কিছু অংশ জয় করে মুসলিম সাম্রাজ্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত করেন।

ওমর ন্যায়বিচারের প্রতি তার কঠোর আনুগত্য এবং তার জনগণের কল্যাণের জন্য তার উদ্বেগের জন্য পরিচিত ছিলেন।  তিনি একটি বিস্তৃত আইনী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, যা শরিয়া নামে পরিচিত, যা আজও ইসলামী আইনকে প্রভাবিত করে চলেছে।  তিনি দরিদ্র ও দরিদ্রদের সাহায্য করার জন্য বেশ কয়েকটি সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচিও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

তার অনেক কৃতিত্ব সত্ত্বেও, ওমর সমালোচনা থেকে মুক্ত ছিলেন না।  তিনি 644 খ্রিস্টাব্দে আবু লুলু নামে একজন পারস্য দাস দ্বারা হত্যা করেছিলেন, যিনি অনারবদের ইসলামে ধর্মান্তরিত করার প্রতি ওমরের নীতির কারণে ক্ষুব্ধ ছিলেন।

ওমরের উত্তরাধিকার মুসলিম বিশ্বে পালিত হচ্ছে, এবং তাকে ইসলামী ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়।  তাঁর নেতৃত্ব, ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার এবং তাঁর জনগণের কল্যাণের উদ্বেগ আজও সারা বিশ্বের মুসলমানদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে।


ইসলামের খলিফা ওমর ফারুকের জীবন কাহিনী এখন বিশ্বের শীর্ষ :

ওমর ফারুক, উমর ইবনুল খাত্তাব নামেও পরিচিত, ছিলেন ইসলামের সবচেয়ে বিশিষ্ট এবং সম্মানিত খলিফাদের একজন।  তিনি 584 খ্রিস্টাব্দে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং নবী মুহাম্মদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।  তিনি তার প্রথম জীবনে ইসলামের ঘোর বিরোধী ছিলেন, কিন্তু ইসলামের সত্যতা ও সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করার পর তিনি ৬১৬ খ্রিস্টাব্দে ধর্মান্তরিত হন।

নবীর মৃত্যুর পর ওমর ইসলামিক স্টেট প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।  তিনি ৬৩৬ থেকে ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দ্বিতীয় খলিফা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ন্যায়বিচার ও সাম্যের প্রতি কঠোর আনুগত্যের জন্য পরিচিত।  তিনি তার সামরিক দক্ষতা এবং পারস্য, সিরিয়া এবং মিশরে মুসলিম সাম্রাজ্য সম্প্রসারণের জন্যও বিখ্যাত।

ওমর তার সরলতা ও নম্রতার জন্য পরিচিত ছিলেন।  তিনি একটি মিতব্যয়ী জীবনযাপন করতেন, এবং তার দৈনন্দিন রুটিনের মধ্যে তার নিজের গবাদি পশুর দেখাশোনা এবং কূপ থেকে নিজের জল বহন করা অন্তর্ভুক্ত ছিল।  তিনি ইসলামী আইনের কঠোর আনুগত্যের জন্য পরিচিত ছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রায়ই ধর্মীয় পণ্ডিতদের সাথে পরামর্শ করতেন।

ওমরের নেতৃত্বে, ইসলামিক স্টেট অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি অনুভব করে।  তিনি একটি বিস্তৃত শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যা তাদের পটভূমি বা ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করেছিল।  তিনি কর, শিক্ষা এবং সামাজিক কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার শুরু করেছিলেন।

ওমরের শাসনামল অনেক উল্লেখযোগ্য অর্জন দ্বারা চিহ্নিত ছিল।  তিনি প্রথম ইসলামিক ক্যালেন্ডার প্রতিষ্ঠা করেন, ইসলামিক স্টেটের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে আরবি ব্যবহারের প্রমিতকরণ করেন এবং একটি একক, প্রমিত পাঠে কুরআনের সংকলন তত্ত্বাবধান করেন।  তিনি বায়ত আল-মাল, বা "ধনের ঘর" প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা দরিদ্র ও অভাবীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিল।

তার অনেক অর্জন সত্ত্বেও, ওমর একজন নম্র এবং বিনয়ী নেতা ছিলেন।  তিনি তার বিখ্যাত উক্তিটির জন্য স্মরণীয়, "যদি ওমর সঠিক হয়, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। যদি ওমর ভুল হয়, তবে তা ওমরের পক্ষ থেকে।"

৬৪৪ খ্রিস্টাব্দে ওমরের জীবন শেষ হয়ে যায়, যখন তিনি একজন পারস্য দাস দ্বারা নিহত হন যিনি তার নীতির সাথে একমত নন।  তবে তার উত্তরাধিকার ন্যায়বিচার, সাম্য এবং ইসলামী মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে বেঁচে আছে।  তিনি ব্যাপকভাবে ইসলামের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ নেতাদের একজন এবং ঈশ্বরের প্রকৃত দাস হওয়ার অর্থ কী তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসাবে বিবেচিত।


খলীফা ওমর এর বিচার বেবস্থ কি রকমের ছিলো :


আমি যতদূর জানি, খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব খলিফা থাকাকালীন কোন বিচারের সম্মুখীন হননি।  তিনি ইসলামী আইনের কঠোর আনুগত্যের জন্য পরিচিত ছিলেন এবং নিশ্চিত করেছিলেন যে সমস্ত ব্যক্তির পটভূমি বা অবস্থান নির্বিশেষে নিরপেক্ষভাবে ন্যায়বিচার পরিবেশন করা হয়েছে।

যাইহোক, তার শাসনামলে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছিল যেখানে তাকে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বা নবী মুহাম্মদের সাথীদের জড়িত মামলা মোকাবেলা করতে হয়েছিল।  একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল যখন ওমরের ঘনিষ্ঠ সহচর আবু উবাইদাহ ইবন আল-জাররাহকে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছিল।  ওমর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেন এবং বিষয়টির তদন্তের নির্দেশ দেন এবং অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হলে তিনি আবু উবাইদাহকে তার পদ থেকে অপসারণ করেন এবং চুরি করা টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আরেকটি ঘটনায় জড়িত ওমরের নিজের ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর, যিনি চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন।  ওমর তার ছেলের হাত কেটে ফেলার আদেশ দিতে দ্বিধা করেননি, ন্যায়বিচার ও সমতার নীতিকে সমুন্নত রাখার প্রতি তার অঙ্গীকার প্রদর্শন করে, এমনকি যখন এটি তার নিজের পরিবারের সদস্যদের কাছে আসে।

সামগ্রিকভাবে, ওমরের শাসনামল ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতার প্রতি অঙ্গীকার দ্বারা চিহ্নিত ছিল এবং তিনি সকল ব্যক্তিকে আইনের অধীনে ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন।★★খলিফা ওমর (উমর ইবনুল খাত্তাব) তার জীবদ্দশায় কোনো বিচারের মধ্য দিয়ে গেছেন এমন কোনো নথি নেই।  যাইহোক, তার মৃত্যুর পরে, কিছু ব্যক্তি ছিল যাদেরকে তাদের কর্মের জন্য দায়ী করা হয়েছিল যা তাকে হত্যার দিকে পরিচালিত করেছিল।

খলিফা ওমরকে হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে একজন ছিলেন আবু লুলু নামে একজন ব্যক্তি, যিনি ছিলেন একজন পারস্য দাস।  ওমরের মৃত্যুর পর, আবু লুলুকে ধরা হয় এবং তার অপরাধের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য আদালতে হাজির করা হয়।  তাকে বিচার করা হয়েছিল, দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডে তার ভূমিকার জন্য মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

ওমরের হত্যার জন্য দায়ী আরেক ব্যক্তি ছিলেন খালিদ ইবনে ওয়ালিদ নামে একজন।  যদিও তিনি ওমরকে হত্যার চক্রান্তে সরাসরি জড়িত ছিলেন না, খলিফার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন না করার জন্য তাকে দায়ী করা হয়।  ফলস্বরূপ, তিনি তার সামরিক কমান্ড এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসাবে তার মর্যাদা কেড়ে নিয়েছিলেন।

সামগ্রিকভাবে, যদিও খলিফা ওমর তার জীবদ্দশায় কোনো বিচারের মধ্য দিয়ে যাননি, সেখানে এমন কিছু ব্যক্তি ছিলেন যাদেরকে তার হত্যার পর তাদের কর্মের জন্য দায়ী করা হয়েছিল।



খলীফা ওমর ফারুক মানুষকে যে ভাবে সাহায্য করতো:

খলিফা ওমর ফারুক (উমর ইবনুল খাত্তাব) লোকেদের, বিশেষ করে দরিদ্র এবং দুর্বলদের সাহায্য করার জন্য তাঁর সহানুভূতি এবং উত্সর্গের জন্য পরিচিত ছিলেন।  এখানে দশটি উপায় রয়েছে যা তিনি মানুষকে সাহায্য করতেন:

বায়তুল-মাল প্রতিষ্ঠা: খলিফা ওমর বায়তুল-মাল নামে পরিচিত একটি কোষাগার প্রতিষ্ঠা করেন, যা দরিদ্র ও অভাবীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।  জাকাত (বাধ্যতামূলক দাতব্য) এবং স্বেচ্ছায় অনুদানের অন্যান্য রূপ সহ বিভিন্ন উৎসের মাধ্যমে কোষাগারটি অর্থায়ন করা হয়েছিল।

বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান: ওমর শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন এবং প্রত্যেকের শিক্ষার অ্যাক্সেস নিশ্চিত করার জন্য ইসলামিক স্টেট জুড়ে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।  এমনকি শিক্ষার খরচ বহন করতে অক্ষম ছাত্রদের তিনি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

উদ্বৃত্ত সম্পদ বণ্টন: ওমর ধনীদের উৎসাহিত করতেন তাদের উদ্বৃত্ত সম্পদ গরীব ও অভাবীদের মধ্যে বিতরণ করতে।  তিনি নিজে প্রায়ই নিজের সম্পদ গরীব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন।

সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা: ওমর তাদের পটভূমি বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সমস্ত নাগরিকের মধ্যে সম্পদের সুষ্ঠু বন্টন নিশ্চিত করার জন্য নীতি বাস্তবায়ন করেছিলেন।

বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান: ওমর সমস্ত নাগরিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য ইসলামিক স্টেট জুড়ে হাসপাতাল ও ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেন।

অবকাঠামো উন্নয়ন: ওমর জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য রাস্তা, সেতু এবং জল ব্যবস্থা নির্মাণ সহ বেশ কয়েকটি অবকাঠামো প্রকল্প শুরু করেছিলেন।

একটি ন্যায্য বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা: ওমর একটি ন্যায্য বিচার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করেছিলেন যেখানে সমস্ত নাগরিক, তাদের পটভূমি বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে, আইনের অধীনে সমানভাবে আচরণ করা হয়েছিল।

এতিম ও বিধবাদের সহায়তা করা: ওমর এতিম ও বিধবাদের আর্থিক সহায়তা এবং সহায়তা প্রদান করেছিলেন যারা রুটিওয়ালা ছাড়া বাকি ছিল।

সামাজিক কল্যাণ প্রচার: ওমর মানুষকে একে অপরের যত্ন নিতে উত্সাহিত করেছিলেন এবং সামাজিক কল্যাণের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছিলেন।  তিনি প্রায়ই ব্যক্তিগতভাবে অসুস্থ এবং অভাবীদের দেখতে যেতেন যাতে তাদের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।

দাতব্য ও স্বেচ্ছাসেবীকে উৎসাহিত করা: ওমর লোকদের দাতব্য দান করতে এবং প্রয়োজনে তাদের সাহায্য করার জন্য তাদের সময় এবং সম্পদ স্বেচ্ছাসেবী করতে উত্সাহিত করেছিলেন।  তিনি বিশ্বাস করতেন যে দাতব্য এবং স্বেচ্ছাসেবী একটি শক্তিশালী এবং যত্নশীল সম্প্রদায় গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য।

মৃত্যু পরে ওমর ফারুক নিয়ে চাহাবি গন যা নিয়ে আলোচনা করেছে :খলিফা ওমর ফারুক (উমর ইবনুল খাত্তাব) এর মৃত্যুর পর, নবী মুহাম্মদের সাহাবীরা উত্তরাধিকার ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে এবং ইসলামিক স্টেট পরিচালনার জন্য একজন নতুন নেতা নির্বাচন করার জন্য একত্রিত হন।  এখানে দশটি বিষয় রয়েছে যা সাহাবীগণ আলোচনা করেছেন:

একজন যোগ্য এবং যোগ্য নেতা নির্বাচনের গুরুত্ব: সাহাবীরা এমন একজন নেতা নির্বাচন করার গুরুত্ব স্বীকার করেছিলেন যিনি জ্ঞানী, ন্যায়পরায়ণ এবং কার্যকরভাবে ইসলামিক স্টেট পরিচালনা করতে সক্ষম ছিলেন।

নতুন নেতা নির্বাচনের মাপকাঠি: সাহাবায়ে কেরাম আলোচনা করেছেন নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য যে মানদণ্ড ব্যবহার করা উচিত, যার মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে ব্যক্তির জ্ঞান, নেতৃত্ব ও শাসন করার ক্ষমতা এবং তাদের ধার্মিকতা ও নৈতিক চরিত্র।

নির্বাচনের পদ্ধতি: সঙ্গীরা বিতর্ক করেছেন যে পদ্ধতিটি নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য ব্যবহার করা উচিত, কিছু একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতির পক্ষে সমর্থন করে, যখন অন্যরা সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে পরামর্শের আরও ঐতিহ্যগত পদ্ধতির পক্ষে ছিল।

খলিফার পদের সম্ভাব্য প্রার্থী: সাহাবীগণ খলিফার পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে আলোচনা করেছেন, তাদের যোগ্যতা এবং ইসলামী রাষ্ট্রের নেতৃত্ব ও পরিচালনার ক্ষমতা বিবেচনা করে।

কুরাইশ গোত্রের ভূমিকা: কোরাইশ গোত্র, যেটির সাথে নবী মুহাম্মদ এবং খলিফা ওমর উভয়ই ছিলেন, আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, কিছু সাহাবী যুক্তি দিয়েছিলেন যে পরবর্তী খলিফাও কুরাইশ গোত্রের হতে হবে।

ঐক্যের গুরুত্ব: সাহাবীরা নতুন নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঐক্য ও ঐকমত্যের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন এবং সিদ্ধান্তটি এমনভাবে নেওয়া হয়েছে যাতে সব পক্ষের কাছে সম্মত হয়।

পরামর্শের ভূমিকা: সাহাবায়ে কেরাম ইসলামী শাসনের নীতিমালা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পরামর্শের গুরুত্ব এবং অন্যদের মতামতের প্রতি গুরুত্বারোপ করতেন।

খলিফা ওমরের উত্তরাধিকার: সঙ্গীরা খলিফা ওমরের উত্তরাধিকার এবং তিনি ইসলামিক স্টেটে যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তা প্রতিফলিত করেছিলেন এবং একই মূল্যবোধ ও নীতিগুলিকে সমুন্নত রাখতে একজন নতুন নেতা নির্বাচন করে তার কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

ইসলামিক স্টেটের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জ: সঙ্গীরা বাহ্যিক হুমকি এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন সহ সেই সময়ে ইসলামিক স্টেটের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জগুলি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন এবং এই চ্যালেঞ্জগুলিকে কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে পারে এমন একজন নেতা নির্বাচন করার জন্য কাজ করেছিলেন।

ইসলামিক স্টেটের ভবিষ্যত: সাহাবীরা ইসলামিক স্টেটের ভবিষ্যত এবং এর আধ্যাত্মিক লক্ষ্য এবং এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন উভয় ক্ষেত্রেই এর অব্যাহত বৃদ্ধি ও সাফল্য নিশ্চিত করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।


বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৩

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বাণী - ৫ টি কাজে প্রতি বলেগেছেন



آمَنْتُ بِاللهِ كَمَا هُوَ بِأَسْمَانِهِ وَصِفَاتِهِ وَقَبِلْتُ جَمِيعَ أَحْكامِهِ
 وَأَرْكَانِهِ -★★ 

 উচ্চার ঃ আ-মানতু বিল্লা-হি কামা হুয়া বি-আসমা-ইয়াহি ওয়া সিফা-তিহি ওয়া কাবিলতু জামী'আ আকা-মিহি ওয়া আরকা-নিহি। অর্থ: আমি মহান আল্লাহ তা'আলার প্রতি ঈমান আনয়ন সর্বরূপ যে রূপ তিনি আছেন তাঁর নাম ও গুণাবলীর সাথে আমি তাঁর স্থানীয় আদেশ ও মানকে গ্রহণ করে নিলাম। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বাণী ----- ১. চার হাজার দিনার ছদকা দিয়ে ঘুমাইবেন। ২. এক খতম কোরআন শরীফ পরে ঘুমাইবেন। ৩. জান্নাতের মূল্য দিয়ে ঘুমাইবেন। ৪. দুই বিবাদ মিত্র ঘুমাইবেন। ৫. এক হজ্ব ঘুম ঘুমাইবেন। হযরত আলী (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ) আমার জন্য বড়ই কঠিন। আমি কি এই কাজ করতে পারি? উত্তরে মহানবী (সঃ) বললেন-

 ১. চারবার সুরা ফাতিহা পড়িয়া ঘুমাইলে চার দিনার ছদকা তোমার আমনামায় লেখা হবে। 

 ২. তিনবার 'সুরা ইখলাস' (কুলহু আল্লাহু) পড়িয়া ঘুমাইলে এক খতম শারীফ পড়া সাওয়াব পাইবে। 

 ৩. তিনবার 'দরুদ শরীফ' পড়িয়া ঘুমাইলে জান্নাতের মূল্য আদায় করা যাবে। 

 ৪. দুবার ‘ইসতেগফার' পড়িয়া ঘুমিয়ে দু’জনের বিবাদ মিটানোর সওয়াব পাই। ৫. চারবার ‘কালেমায়ে তাজিদ' পড়িয়া ঘুমাইলে এক হজ্বের সাওয়াব পাইবে। ছোবহানাল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়াল ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ আলিল আজিম। এর পর হযরত আলী (রাঃ) বললেন ইয়া আপ (সঃ) আমি এই দিনে আম করে ঘুমাইব।

মঙ্গলবার, ২১ মার্চ, ২০২৩

বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার ঐতিহাসিক স্থান গুলো পরিচয়।

 

ষাট গম্বুজ মসজিদ 

বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার ঐতিহাসিক স্থানগুলো এখন বিশ্বের শীর্ষে পরিচিত


 বাগেরহাট বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি জেলা যা মসজিদ, সমাধি এবং অন্যান্য স্থাপনা সহ বহু ঐতিহাসিক স্থানের জন্য বিখ্যাত।  এই সাইটগুলি বিশ্বের ইসলামিক স্থাপত্যের সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক উদাহরণগুলির মধ্যে একটি, এবং তারা বিশ্বজুড়ে পর্যটক এবং পণ্ডিতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।


 বাগেরহাটের অন্যতম বিখ্যাত স্থান হল ষাট গম্বুজ মসজিদ, যেটি ১৫ শতকে মুসলিম সাধক খান জাহান আলী নির্মাণ করেছিলেন।  মসজিদটি তার বৃহৎ কেন্দ্রীয় গম্বুজের জন্য পরিচিত, যা ৬০ টি ছোট গম্বুজ দ্বারা বেষ্টিত, সেইসাথে এর জটিল পোড়ামাটির অলঙ্করণের জন্য।  এটিকে দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম স্থাপত্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট।


 বাগেরহাটের আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্থান হল শৈত গুম্বাদ মসজিদ, যেটি ১৫ শতকের প্রথম দিকে নির্মিত একটি ছোট কিন্তু এখনও চিত্তাকর্ষক মসজিদ।  মসজিদটি তার স্বাতন্ত্র্যসূচক নীল এবং সাদা টালির কাজের পাশাপাশি এর অনেক গম্বুজ এবং খিলানের জন্য পরিচিত।


 বাগেরহাটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে খান জাহান আলীর সমাধি, সিঙ্গাইর মসজিদ এবং বিবি বেগনি মসজিদ, যার সবকটিই ইসলামী স্থাপত্য ও নকশার চমৎকার উদাহরণ।.

★★★★★

বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার ঐতিহাসিক স্থানগুলো এখন বিশ্বের সেরা দশে পরিচিত----


 বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত বাগেরহাট জেলাটি দেশের সবচেয়ে ঐতিহাসিকভাবে উল্লেখযোগ্য কিছু স্থানের আবাসস্থল।  এই সাইটগুলি এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রদর্শন করে এবং সারা বিশ্ব থেকে দর্শকদের আকর্ষণ করে।  এখানে বাগেরহাট জেলার সেরা দশটি ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে যা বিশ্বের কাছে পরিচিত:

বাগেরহাটের মসজিদ শহর

 বাগেরহাটের মসজিদ শহর: বাগেরহাটের মসজিদ সিটি ইউনেস্কোর একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং বাংলাদেশের অন্যতম বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থান।  এটি ১৫ শতকে তুর্কি জেনারেল উলুগ খান জাহান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এখানে প্রচুর সংখ্যক মসজিদ, সমাধি এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক ভবন রয়েছে।

ষাট গম্বুজ মসজিদ

 ষাট গম্বুজ মসজিদ: ষাট গম্বুজ মসজিদ, শৈত গম্বুজ মসজিদ নামেও পরিচিত, এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক মসজিদগুলির মধ্যে একটি।  এটি 15 শতকে খান জাহান আলী, একজন মুসলিম সাধক এবং শাসক দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।

খান জাহান আলীর সমাধি

 খান জাহান আলীর সমাধি: খান জাহান আলীর সমাধি বাগেরহাট শহরের প্রতিষ্ঠাতা খান জাহান আলীর শেষ বিশ্রামস্থল।  এটি ষাট গম্বুজ মসজিদের কাছে অবস্থিত এবং এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য।

নয় গম্বুজ মসজিদ:

 নয় গম্বুজ মসজিদ: নয় গম্বুজ মসজিদ বাগেরহাট জেলার আরেকটি উল্লেখযোগ্য মসজিদ।  এটি ১৫ শতকে খান জাহান আলীর একজন শিষ্য দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এবং এটি তার অনন্য স্থাপত্য শৈলীর জন্য পরিচিত।

 

সিংগাইর মসজিদ: সিংগাইর মসজিদ বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত একটি ছোট কিন্তু সুন্দর মসজিদ।  এটি 16 শতকে স্থানীয় জমিদার দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এবং এটি এর জটিল পোড়ামাটির সজ্জার জন্য পরিচিত।


 ঘোরা দীঘি মসজিদ: ঘোরা দীঘি মসজিদ ঘোরা দীঘি পুকুরের কাছে অবস্থিত একটি ছোট মসজিদ।  এটি ১৫ শতকে স্থানীয় জমিদার দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এবং এটি তার অনন্য নকশা এবং সজ্জার জন্য পরিচিত।


 দুর্গাপুর শিব মন্দির: দুর্গাপুর শিব মন্দির বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির।  এটি 15 শতকে নির্মিত হয়েছিল এবং এর সুন্দর পোড়ামাটির সজ্জার জন্য পরিচিত।


 বিবি বেগনীর সমাধি: বিবি বেগনীর সমাধি হল খান জাহান আলীর পুত্রবধূ বিবি বেগনীর শেষ বিশ্রামস্থল।  এটি ষাট গম্বুজ মসজিদের কাছে অবস্থিত এবং এটি তার অনন্য স্থাপত্য শৈলীর জন্য পরিচিত।


 কোদলা মঠ: কোদলা মঠ বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন মঠ।  এটি ১৫ শতকে খান জাহান আলীর একজন শিষ্য দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এবং এর সুন্দর পোড়ামাটির সজ্জার জন্য পরিচিত।


 রূপসা সেতু: রূপসা সেতু বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত একটি পুরাতন রেলওয়ে সেতু।  এটি ১৯ শতকে ব্রিটিশদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এবং এটি তার অনন্য নকশা এবং ঐতিহাসিক তাত্পর্যের জন্য পরিচিত।

★★★

বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলা তার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য পরিচিত।  এটি বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থানের আবাসস্থল যা ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে স্বীকৃত হয়েছে।  এখানে বাগেরহাট জেলার সেরা দশটি ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে যা ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত:


 ষাট গম্বুজ মসজিদ (শৈত গম্বুজ মসজিদ): এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম মসজিদ, বাংলার সালতানাত ১৫ শতকে নির্মিত।


 খান জাহান আলীর সমাধি: এটি বাগেরহাটের প্রতিষ্ঠাতা খান জাহান আলীর সমাধি।  এটি মুঘল স্থাপত্যের একটি সুন্দর নিদর্শন।


 নয় গম্বুজ মসজিদ (নয় গম্বুজ মসজিদ): এই মসজিদটি 15 শতকে একই স্থপতি দ্বারা নির্মিত হয়েছিল যিনি ষাট গম্বুজ মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।


 সিঙ্গাইর মসজিদ: এই মসজিদটি সিঙ্গাইর গ্রামে অবস্থিত এবং এর জটিল পোড়ামাটির নকশার জন্য পরিচিত।


 বিবি বেগনীর মসজিদ: এই মসজিদটি 15 শতকে নির্মিত হয়েছিল এবং এটি সুন্দর নীল এবং সাদা টাইলসের জন্য পরিচিত।


 রনবিজয়পুর মসজিদ: এই মসজিদটি রনবিজয়পুর গ্রামে অবস্থিত এবং এটি তার অনন্য স্থাপত্য নকশার জন্য পরিচিত।


 খান জাহান আলীর দরগাহ: এটি খান জাহান আলীর মাজার এবং মুসলমানদের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় তীর্থস্থান।


 খান জাহান আলীর কন্যার সমাধি: এটি খান জাহান আলীর কন্যার সমাধি এবং এর সুন্দর পোড়ামাটির নকশার জন্য পরিচিত।


 ঠাকুর দীঘি: এটি একটি বড় পুকুর যা 15 শতকে নির্মিত হয়েছিল এবং এটি বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক ভবন দ্বারা বেষ্টিত।


 ঘোরা দীঘি: এটি আরেকটি বড় পুকুর যা ১৫ শতকে নির্মিত হয়েছিল এবং এটি বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক ভবন দ্বারা বেষ্টিত।


 বাগেরহাট জেলার এই ঐতিহাসিক স্থানগুলি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রদর্শন করে এবং ইতিহাস ও স্থাপত্যে আগ্রহী যে কেউ অবশ্যই দর্শনীয়।

শনিবার, ১৮ মার্চ, ২০২৩

বাংলাদেশ সুন্দরবন সম্পর্কে অজানা তথ্য

 

Bangladesh beautiful forest pictures

সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল এবং ভারতের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি ম্যানগ্রোভ বন ব-দ্বীপ।  এটি বিশ্বের বৃহত্তম সংলগ্ন ম্যানগ্রোভ বন, এবং একটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট।  সুন্দরবনের বাংলাদেশী অংশ প্রায় ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে, যেখানে ভারতীয় অংশ প্রায় ৪,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে।  সুন্দরবন হল বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল এবং এটি তার আইকনিক বেঙ্গল বাঘের জনসংখ্যার জন্য পরিচিত।  এখানে বাংলাদেশ সুন্দরবন সম্পর্কে কিছু কম জানা তথ্য রয়েছে:

(1)।  সুন্দরবনের:

গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর পলি জমে সুন্দরবনের সৃষ্টি হয়েছে।  ক্ষয় ও পলি জমার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও জোয়ার-ভাটার প্রভাবে বনের আকৃতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে।

(২) সুন্দরবনের গুরুত্বঃ

ঘূর্ণিঝড় ও ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে সুন্দরবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  ম্যানগ্রোভ গাছ শক্তিশালী তরঙ্গের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে, যা এই ঘটনার ফলে সৃষ্ট ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।  সুন্দরবন মাছ ধরা, মধু সংগ্রহ এবং কাঠ কাটার মাধ্যমে বনের আশেপাশে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকাকেও সমর্থন করে।

Bangladesh beautiful forest pictures


(3)।  সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য:

সুন্দরবনে ৫০টিরও বেশি প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৩০০ প্রজাতির পাখি এবং ১২০ প্রজাতির মাছ সহ বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল।  বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও, সুন্দরবনে পাওয়া অন্যান্য আইকনিক প্রজাতির মধ্যে রয়েছে লবণাক্ত পানির কুমির, ভারতীয় অজগর এবং দাগযুক্ত হরিণ।

(4)।  বিপন্ন প্রজাতি:

সুন্দরবনে ইরাবদি ডলফিন, মোহনা কুমির এবং অলিভ রিডলি কচ্ছপ সহ বেশ কয়েকটি বিপন্ন প্রজাতির বাসস্থান।  সুন্দরবন এশিয়ান ডাউইচার এবং চামচ-বিল্ড স্যান্ডপাইপার সহ বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল সরবরাহ করে।

(5)।  উদ্ভিদ ও প্রাণীর অভিযোজন:

সুন্দরবনের উদ্ভিদ ও প্রাণী ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেমের অনন্য পরিবেশগত অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে।  উদাহরণস্বরূপ, ম্যানগ্রোভ গাছগুলি নিউমাটোফোর নামক বিশেষ শিকড় তৈরি করেছে, যা তাদের জলাবদ্ধ মাটিতে শ্বাস নিতে সাহায্য করে।  একইভাবে, বেঙ্গল টাইগার এবং মোহনা কুমিরের মতো প্রাণীরা এমন পরিবেশে বসবাসের জন্য মানিয়ে নিয়েছে যেখানে জলের স্তর জোয়ারের সাথে ওঠানামা করে।

Bangladesh beautiful forest pictures


(6)।  সুন্দরবনের ঐতিহ্যগত ব্যবহার:

সুন্দরবনে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ বসবাস করে আসছে এবং বন স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।  বনটি মাছ ধরা, মধু সংগ্রহ এবং কাঠ কাটা সহ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।  অনেক সম্প্রদায় ঐতিহ্যগত ওষুধ এবং ভেষজ প্রতিকারের জন্যও সুন্দরবনের উপর নির্ভর করে।

(7)।  সুন্দরবনের জন্য হুমকি:

জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার সহ সুন্দরবন বিভিন্ন ধরনের হুমকির সম্মুখীন।  সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় বনকে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলেছে, যা এর উপর নির্ভরশীল মানুষ এবং বন্যপ্রাণীদের জন্য মারাত্মক পরিণতি হতে পারে।  শিল্প ও কৃষি কার্যক্রমের দূষণও একটি প্রধান উদ্বেগের বিষয়, কারণ এটি ম্যানগ্রোভ বনের সূক্ষ্ম বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে।

(8)।  সংরক্ষণ প্রচেষ্টা:

সুন্দরবন রক্ষায় বেশ কিছু সংরক্ষণের উদ্যোগ চলছে।  বাংলাদেশী সরকার বনের মধ্যে বেশ কিছু সংরক্ষিত এলাকা স্থাপন করেছে এবং বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের জন্য বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থাও কাজ করছে।  প্রচেষ্টাগুলি ব্যবস্থাপনা অনুশীলনের উন্নতি, মানব-বন্যপ্রাণী সংঘর্ষ হ্রাস এবং সুন্দরবনের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়।

(9)।  সাংস্কৃতিক গুরুত্ব:

সুন্দরবন সাহিত্য, শিল্প ও সঙ্গীতের অনেক কাজের অনুপ্রেরণা।  বন..

Bangladesh beautiful forest pictures


★★★Bangladesh Sundarbans Facts★★★
★★★বাংলাদেশ সুন্দরবনের তথ্য★★★
এখানে বাংলাদেশের সুন্দরবন সম্পর্কে কিছু কম জানা তথ্য রয়েছে:

★ বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন: সুন্দরবন হল বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, প্রায় 10,000 বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে।  এটি বিখ্যাত সুন্দরী গাছ সহ 400 টিরও বেশি প্রজাতির উদ্ভিদের আবাসস্থল, যা বনটিকে এর নাম দেয়।

★রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারস: সুন্দরবন পৃথিবীর একমাত্র জায়গা যেখানে আপনি পৃথিবীর বৃহত্তম বিড়াল প্রজাতি রয়েল বেঙ্গল টাইগার খুঁজে পেতে পারেন।  সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা প্রায় ৪০০।

★অনেক বিপন্ন প্রজাতির বাসস্থান: সুন্দরবন শুধুমাত্র বাঘেরই আবাসস্থল নয় বরং অন্যান্য বিপন্ন প্রজাতি যেমন লবণাক্ত জলের কুমির, ভারতীয় অজগর, ইরাবদি ডলফিন এবং নদী টেরাপিনেরও বাসস্থান।

★ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট: সুন্দরবন একটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট, যা তার অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য স্বীকৃত।

★ বৃহত্তম ব-দ্বীপ অঞ্চল: সুন্দরবন গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনা নদীর ব-দ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত।  এটি বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি, এবং এর অনন্য বাস্তুশাস্ত্র স্বাদুপানি এবং লবণাক্ত জলের মিথস্ক্রিয়া দ্বারা আকৃতির।

★ জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ: সুন্দরবন বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল।  অনুমান করা হয় যে বনে ২৬০ প্রজাতির পাখি, ১২০ প্রজাতির মাছ, ৫০ প্রজাতির সরীসৃপ এবং 8 প্রজাতির উভচর প্রাণী রয়েছে।

★ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেম: সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেম বিশ্বের অন্যতম উৎপাদনশীল বাস্তুতন্ত্র।  ম্যানগ্রোভ গাছ এবং অন্যান্য গাছপালা উপকূলরেখাকে ভাঙন এবং ঝড়ের ঢেউ থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

★জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হুমকি: সুন্দরবন জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আরও ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়ের কারণে হুমকির সম্মুখীন।  বন উজাড়, মাছ ধরা এবং দূষণের মতো মানব কর্মকাণ্ড থেকেও বন হুমকির মুখে।
বাংলাদেশ সুন্দরবন সম্পর্কে অজানা তথ্য

সুন্দরবন হল বঙ্গোপসাগরের ব-দ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত একটি বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ বন, যা ভারত এবং বাংলাদেশ ভাগ করে নিয়েছে।  এখানে বাংলাদেশ সুন্দরবন সম্পর্কে কিছু কম জানা তথ্য রয়েছে:

(১)।  ম্যানগ্রোভ বন: বাংলাদেশ সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, প্রায় ১0,000 বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে।

(২)।  রয়েল বেঙ্গল টাইগারদের বাড়ি: সুন্দরবন বিপন্ন রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল, যা বিশ্বের বৃহত্তম বাঘের উপ-প্রজাতিগুলির মধ্যে একটি।  সুন্দরবনে প্রায় ৪০০ বাঘ রয়েছে বলে অনুমান করা হয়।

(৩)।  ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট: সুন্দরবনকে তার অনন্য জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশগত গুরুত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ 1987 সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করা হয়।

(৪)।  জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি: জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড় এবং দূষণের কারণে আবাসস্থলের ক্ষতি সহ সুন্দরবন এর জীববৈচিত্র্যের জন্য অনেক হুমকির সম্মুখীন।  রয়েল বেঙ্গল টাইগার বিশেষভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, আবাসস্থলের ক্ষতি এবং শিকারের কারণে এর জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।

(৫)।  সমৃদ্ধ সামুদ্রিক জীবন: সুন্দরবন শুধুমাত্র বাঘ এবং অন্যান্য স্থল প্রাণীর আবাসস্থল নয়, এটি একটি সমৃদ্ধ সামুদ্রিক জীবনও রয়েছে।  এটি ইলিশ সহ অনেক প্রজাতির মাছের প্রজনন ক্ষেত্র, যা বাংলাদেশে একটি উপাদেয় হিসাবে বিবেচিত হয়।

(৬)।  অনন্য ইকোসিস্টেম: সুন্দরবন হল একটি অনন্য বাস্তুতন্ত্র যা বঙ্গোপসাগরের নোনা জল এবং গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনা নদীর স্বাদু জল দ্বারা প্রভাবিত।  এটি বিভিন্ন প্রজাতির জন্য একটি বৈচিত্র্যময় বাসস্থান তৈরি করে।

(৭)।  ম্যানগ্রোভ মধু: সুন্দরবন তার অনন্য ম্যানগ্রোভ মধুর জন্য পরিচিত, যা স্থানীয় মধু সংগ্রহকারীরা সংগ্রহ করেন।  মধুর ঔষধি গুণ রয়েছে বলে মনে করা হয় এবং স্থানীয় বাজারে এর উচ্চ চাহিদা রয়েছে।

(৮)।  হিন্দু মন্দির: সুন্দরবনে বেশ কিছু হিন্দু মন্দিরও রয়েছে, যেগুলো উৎসবের সময় ভক্তরা পরিদর্শন করেন।  কিছু মন্দির জঙ্গলের গভীরে অবস্থিত এবং শুধুমাত্র নৌকায় যাওয়া যায়।

(৯)।  ঘূর্ণিঝড় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ: সুন্দরবন ঘূর্ণিঝড় এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ, যা বাস্তুতন্ত্র এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করতে পারে।  2007 সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর দ্বারা এলাকাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটায়।

(১০)।  ইকোট্যুরিজম: বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি সুন্দরবনে ইকোট্যুরিজম প্রচার শুরু করেছে, যার লক্ষ্য বনের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য আয় তৈরি করা।  পর্যটকরা বনের মধ্য দিয়ে নৌকায় ভ্রমণ করতে পারেন, প্রকৃতিতে হাঁটতে পারেন এবং তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে বন্যপ্রাণী দেখতে পারেন।.

মঙ্গলবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৩

কাজী নজরুল ইসলাম এর জীবন কাহিনি।

 কবির-পরিচিতি-----

কাজী নজরুল ইসলাম এর জীবন কাহিনি।

 

Life story of Kazi Nazrul Islam.




কাজী নজরুল ইসলামের জন্মগ্রহণ তারিখ।
★কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম কি
★কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম কোন যায়গায়।
★কাজী নজরুল ইসলাম কত সালে ঢাকায় আসছে।
★কাজী নজরুল একুশে পদক পেয়েছে।
★কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবরণ করে।
★কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ গুলো।
★কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস গুলো।
★কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধগ্রন্থ গুলো।

  • কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৫ মে (বাংলা ১৩০৬ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান র মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম দুখু মিয়া। তাঁর পিতার নাম কাজী ফকির আহমদ এবং মাতার নাম জাহেদা খাতুন। নজরুল অল্প বয়সেই পিতা-মাতা দুজনকেই হারান। শৈশব থেকে - স্কুলের ধরাবাধা জীবনে কখনোই তিনি আকৃষ্ট হননি। বারো বয়সে তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন পালাগান লেখেন। পরে বর্ধমানে ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাইস্কুলে লেখাপড়া করেন। ১৯১৪ নিত্যসঙ্গী। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ১৯১৭ সালে ৪৯ নং বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। যুদ্ধশেষে নজরুল কলকাতা আসেন ও সাহিত্যসাধনায় মনোনিবেশ করেন। তিনি কিছুদিন মসজিদে ইমামতিও করেন।।
  • সাপ্তাহিক বিজলি পত্রিকার "বিদ্রোহী' কবিতা প্রকাশের পর সাহিত্যক্ষেত্রে তিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হন। তাঁর লেখায় তিনি বিদেশি শাসক, সামাজিক অবিচার ও অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠে প্রতিবাদ সাহিত্য রচনা কয়েক হাজার গানের রচয়িতা। তিনি বেশ কয়েকটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন। তিনি গজল শেয়াল ও রাগপ্রধান করে খ্যাতি অর্জন করেন। আরবি-ফারসি শব্দের সার্থক ব্যবহার তাঁর কবিতাকে বিশিষ্টতা দান করেছে। তিনি রবীন্দ্রনাথের তৈরি করা পথে না চলে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে নিজেকে বিকশিত করেছেন। সাহিত্যে এনেছেন সাম্যবাদ ও অন্যায় চেনা গল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধ রচনায়ও তিনি কুশলতার পরিচয় দিয়েছেন। সম্পাদক এবং সমালোচক হিসেবেও নজরুল খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তিনি মূলত যৌবনের কবি। যৌবনের ধর্মই হল একদিকে যেমন বিদ্রোহ এবং প্রতিবাদ, অন্যদিকে প্রেম। এ দুটো অনুভূতিরই সূচনা হয় আবেগের প্রাবল্য থেকে। নজরুলের ভাষণ, সম্পাদকীয়, সমালোচনা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, ছোটগল্প প্রতিটি ক্ষেত্রই ভাষার কাব্যিক ব্যঞ্জনা এবং বলিষ্ঠতায় পূর্ণ। তিনিদৈনিক নবযুগ, পত্রিকায় সম্পাদকের কাজ করেছেন। মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
  • ১৯৭২ সালে কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে জাতীয় কবির মর্যাদায় অভিষিক্ত করা হয়। কবিকে ঢাকা ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ডিলিট, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ‘জন্মতারিণী স্বর্ণপদক, ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ' ও বাংলাদেশ সরকার ‘একুশে পদক' প্রদান করে। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। নজরুলের প্রধান সাহিত্যকর্ম :
  • কাব্যগ্রন্থ :
  • অগ্নিবীণা (১৯২২),
  • বিষের বাঁশী (১৯২৪),
  • ছায়ানট (১৯২৪),
  • সাম্যবাদী (১৯২৫),
  • সর্বহারা (১৯২৬),
  • সিন্ধু-হিন্দোল (১৯২৭),
  • চক্রবাক (১৯২৯),
  • ফণি-মনসা (১৯২৯),
  • প্রলয়-শিখা (১৯৩০);
  • উপন্যাস :
  • বাধনহারা (১৯২৭),
  • মৃত্যুক্ষুধা (১৯৩০),
  • কুহেলিকা (১৯৩১);
  • গল্পগ্রন্থ : ব্যথার দান (১৯২২), রিক্তের বেদন (১৯২৫), শিউলিমালা (১৯৩১);
  • প্রবন্ধগ্রন্থ :
  • যুগবাণী (১৯২২),
  • রাজবন্দীর জবানবন্দী (১৯২৩),
  • দুর্দিনের যাত্রী (১৯২৬),
  • রুদ্রমঙ্গল (১৯২৬)।
  • ভূমিকা
  • কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সাম্যবাদী কবিতাটি আবদুল কাদির সম্পাদিত বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত 'নজরুল রচনাবলি'র প্রথম খণ্ড থেকে সংকলিত হয়েছে। ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত 'সাম্যবাদী' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত এ কবিতাটি বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক মানব সমাজ গঠনের প্রত্যাশায় রচিত হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠীর দোহাই দিয়ে মানুষে মানুষে বিভেদকে ভুলে কবি মানবতার মর্মবাণীকে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন এই কবিতায় ।

কাজী নজরুল ইসলাম কবিতায় বলেছে -----
গাহি সাম্যের গান-
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান,
যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম ক্রিশ্চান।
গাহি সাম্যের গান!
কে তুমি?- পার্সি? জৈন? ইহুদি? সাঁওতাল, ভীল, গারো? কনফুসিয়াস্? চার্বাক- চেলা? বলে যাও, বল আরও !
বন্ধু, যা খুশি হও, পেটে-পিঠে, কাঁধে-মগজে যা-খুশি পুঁথি ও কেতাব বও, কোরান-পুরাণ-বেদ-বেদান্ত-বাইবেল-ত্রিপিটক- জেন্দাবেস্তা-গ্রন্থ-সাহেব পড়ে যাও যত সখ, - কিন্তু কেন এ পণ্ডশ্রম, মগজে হানিছ শূল? দোকানে কেন এ দর-কষাকষি?- পথে ফোটে তাজা ফুল! তোমাতে রয়েছে সকল কেতার সকল কালের জ্ঞান, সকল শাস্ত্র খুঁজে পাবে সখা খুলে দেখ নিজ প্রাণ! তোমাতে রয়েছে সকল ধর্ম, সকল যুগাবতার, তোমার হৃদয় বিশ্ব-দেউল সকলের দেবতার । কেন খুঁজে ফের দেবতা-ঠাকুর মৃত-পুথি-কঙ্কালে? হাসিছেন তিনি অমৃত-হিয়ার নিভৃত অন্তরালে! এইখানে এসে লুটাইয়া পড়ে সকল রাজমুকুট এই হৃদয়ই সে নীলাচল, কাশী, মথুরা, বৃন্দাবন, বুদ্ধ-গয়া এ, জেরুজালেম এ, মদিনা, কাবা-ভবন, মজিদ এই, মন্দির এই, গির্জা এই হৃদয়, এইখানে বসে ঈসা মুসা পেল সত্যের পরিচয়। এই রণ-ভূমে বাঁশির কিশোর গাহিলেন মহা-গীতা, এই মাঠে হলো মেষের রাখাল নবিরা খোদার মিতা। এই হৃদয়ের ধ্যান-গুহা মাঝে বসিয়া শাক্যমুনি

বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৩

নাট্যকার সিকান্দার আবু জাফর এর পরিচিত।

নাট্য কাহিনির আর একটি মুখ---- ☝👬☝☝☝☝👭

নাট্যকার সিকান্দার আবু জাফর এর পরিচিত
। 


স্টাফ রিপোর্টার-----

সিকানদার আবু জাফর ১৯১৯ সালের ৩১ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
 তাঁর পিতার নাম মঈনুদ্দীন হাশেমী, আর মাতা জোবেদা খানম। কবির প্রকৃত নাম ছিল সৈয়দ সিকানদার আবু জাফর হাশেমী বখত। 
 তালা বিডি ইনস্টিটিউশন থেকে ১৯৩৬ সনে তিনি মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজে কিছুদিন অধ্যয়ন করেন। 
প্রথমে তিনি কলকাতার একটি সরকারী সংস্থায় চাকরি করেন। 
১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ তিনি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত দৈনিক নবযুগ পত্রিকার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হন। চাকরি এবং সাংবাদিকতার পাশাপাশি স্বাধীন ব্যবসায়ের প্রতিও তিনি একসময় মনোযোগী হয়ে ওঠেন। 
ভারত বিভক্তির পর তিনি কলকাতার জীবন ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় এসে একদিকে সাহিত্যচর্চা, অন্যদিকে ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন তিনি। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তিনি রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্রে স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেন। সিকান্দার আবু জাফর জীবনের একটা বৃহত্তর অংশ জুড়ে আছে তাঁর সাংবাদিক কর্মধারা।
 কলকাতা থেকে ঢাকায় আসার পরে তিনি দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় সম্পাদীয় বিভাগে কিছুদিন কাজ করেন। দৈনিক সংবাদের প্রথম সম্পাদকীয় তাঁরই লেখা। সংবাদের পর তিনি। ইত্তেফাক এবং মিল্লাত পত্রিকায়ও সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করেন। ১৯৫৭ সালে সিকানদার আবু জাফরের সম্পাদনার প্রকাশিত হয়। বিখ্যাত সমকাল পত্রিকা। বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে সমকাল পত্রিকার অবদান অসামান্য। নতুন লেখক সৃষ্টিতে সমকাল-এর সম্পাদক ও সহকারী সম্পাদক পালন করেন ঐতিহাসিক ভূমিকা।

 ১৯৭১ সালে মুজিবনগর থেকে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অভিযান পত্রিকা। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অভিযান। পত্রিকার প্রকাশ একটি দুঃসাহসী এবং ঐতিহাসিক ঘটনা। 
সিকান্দার আবু জাফরের সাহিত্যজীবনও গৌরবোজ্জ্বল কীর্তিনে ভাস্বর। স্কুল জীবন থেকেই তিনি কবিতা লিখতে আরম্ভ করেন। কর্মজীবনের সঙ্গে সঙ্গে অগ্রসর হতে থাকে তার সাহিত্যসাধনা।

 একে একে প্রকাশিত হতে থাকে তাঁর কাব্য, উপন্যাস, নাটক, ছড়া ও অনুবাদগ্রন্থসমূহ। গীতিকার ও সুরকার হিসেবেও তিনি বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। বাংলাদেশের সাহিত্য সংস্কৃতি এবং প্রগতিশীল আন্দোলনের সঙ্গেও সিকান্দার আবু জাফরের নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। তাঁর 'আমাদের সংগ্রাম চলবেই চলবে' গানটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিপুল প্রেরণার উৎস হয়ে কাজ করেছে। বাংলাদেশের সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের জন্য তাঁর সংগ্রাম ছিল নিরলস ও অকুণ্ঠ। নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৬৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
 ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 
সিকান্দার আবু জাফরের প্রধান সাহিত্যকর্ম :

 কবিতা :

 প্রসন্ন প্রহর (১৯৬৫),
 বৈরীবৃষ্টিতে (১৯৬৫), 
তিমিরান্তিক (১৯৬৫), 
কবিতা ১৩৭২ (১৯৬৮), 
কবিতা- ১৩৭৪ (১৯৬৮), 
বৃশ্চিক লগ্ন (১৯৭১), 
বাঙলা ছাড়ো (১৯৭২)। 
গানের বই মালব কৌশিক (১৯৬৬)

 উপন্যাস :

 মাটি আর অশ্রু (১৯৪২), 
জয়ের পথে (১৯৪৩), 
পূরবী (১৯৪৪), 
নতুন সকাল (১৯৪৫)
 নাটক শকুন্ত উপাখ্যান (১৯৫৮), 
সিরাজউদ্দৌলা (১৯৬৫),
 মহাকবি আলাউল (১৯৬৬); 
 অনুবাদ : যাদুর কলস (১৯৫৯), 
সেন্ট লুইয়ের সেতু (১৯৬১),
 পশ্চিমের পারাবাত (১৯৬২),
 রুবাইয়াৎ-ই ওমর খৈয়াম (১৯৬৬), 
সিংয়ের নাটক (১৯৭১)।। 

কবি সিকান্দার জাফর ১৯৭১ সালের লেখা কবিতা,,,,

 
জনতার সংগ্রাম চলবেই

 আমাদের সংগ্রাম চলবেই হতমানে অপমানে নয়, 

সুখ সম্মানে বাঁচবার অধিকার কাড়তে দাস্যের নির্মোক ছাড়তে অগণিত মানুষের প্রাণপণ যুদ্ধ চলবেই চলবেই, 

আমাদের সংগ্রাম চলবেই।

 প্রতারণা প্রলোভন প্রলেপে হ’ক না আঁধার নিশ্ছিদ্র আমরা তো সময়ের সারথী নিশিদিন কাটাবো বিনিদ্র।

 দিয়েছি তো শান্তি আরও দেবো স্বস্তি দিয়েছি তো সম্ভ্রম আরও দেবো অস্থি প্রয়োজন হ’লে দেবো একনদী রক্ত। 
হ’ক না পথের বাধা প্রস্তর শক্ত, 

অবিরাম যাত্রার চির সংঘর্ষে একদিন সে-পাহাড় টলবেই। 
চলবেই চলবেই আমাদের সংগ্রাম চলবেই মৃত্যুর ভর্ৎসনা আমরা তো অহরহ শুনছি আঁধার গোরের ক্ষেতে তবু তো’ ভোরের বীজ বুনছি।

 আমাদের বিক্ষত চিত্তে জীবনে জীবনে অস্তিত্বে কালনাগ-ফণা উৎক্ষিপ্ত বারবার হলাহল মাখছি, 

তবু তো ক্লান্তিহীন যত্নে প্রাণে পিপাসাটুকু স্বপ্নে প্রতিটি দণ্ডে মেলে রাখছি। আমাদের কি বা আছে কি হবে যে অপচয়, যার সর্বস্বের পণ কিসে তার পরাজয় ? বন্ধুর পথে পথে দিনান্ত যাত্রী ভূতের বাঘের ভয় সে তো আমাদের নয়। হতে পারি পথশ্রমে আরও বিধ্বস্ত ধিকৃত নয় তবু চিত্ত আমরা তো সুস্থির লক্ষ্যের যাত্রী চলবার আবেগেই তৃপ্ত। আমাদের পথরেখা দুস্তর দুর্গম সাথে তবু অগণিত সঙ্গী বেদনার কোটি কোটি অংশী আমাদের চোখে চোখে লেলিহান অগ্নি সকল বিরোধ-বিধ্বংসী। এই কালো রাত্রির সুকঠিন অর্গল কোনোদিন আমরা যে ভাঙবোই মুক্ত প্রাণের সাড়া জানবোই, আমাদের শপথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে নূতন সূর্যশিখা জ্বলবেই। চলবেই চলবেই আমাদের সংগ্রাম চলবেই।

বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২২

মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন- অথোরা টিভি সম্পাদক

 

Happy Victory Day - Athora TV editor

Happy Victory Day - Athora TV editor


মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন-


স্টাফ রিপোর্টার



মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে  বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অথোরা টিভি24 সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক , বেসরকারি অনেক গুলো পএিকার   স্টাফ রিপোর্টার মোঃ মনিরুল ইসলাম মুন্না। 

১৯৭১ সালের সেই শরনীয় দিন। 

বিজয় দিবসের এক শুভেচ্ছা বানীতে তিনি জানিয়েছেন,৫২ বছর আগে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি,এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে এসেছিল বাংলার স্বাধীনতা।এই দেশে উদিত হয়েছিল নতুন এক সূর্য। সে সূর্যের কিরণে লেগে ছিল রক্ত দিয়ে অর্জিত বিজয়ের রঙ।সেই রক্তের রঙ সবুজ বাংলায় মিশে তৈরি করেছিল বাংলার লাল সবুজ পতাকা।


 সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই পরাজয় মেনে নিয়ে মাথা নত করে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য অস্ত্র সমর্পন করেছিল বাঙালি জাতির বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে। গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা যার সাথে স্মরণ সেই সব শহীদদের যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা।


 স্মরণ করেন সেই সব বীর সেনানীদের যারা শোষণ-বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে অনাগত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেয়ার জন্য প্রাণের মায়া ত্যাগ করে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। যেসব নর-নারীর সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীন দেশের নাগরিক তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সম্মান জানান তিনি। তিনি আরও জানিয়েছেন,মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ প্রাণের আত্নদানে পরাধীনতার লৌহকঠিন শৃংখল ভেঙ্গে লাল সবুজের পতাকা উড়েছে এই পলল ভুমিতে,পৃথিবীর মানচিত্রে আমরা পেয়েছি এক অনবদ্য পরিচয়। স্বাধীনতার দীপ্ত শ্লোগানে মুখরিত সেই মহান বিজয়ের মাসে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সেই সকল অকুতোভয় বীর সেনানী আর সম্ভ্রমহারা মা, বোনদের,যাদের অদম্য সাহস আর আত্নত্যাগের সোপান বেয়ে বিজয় এসেছে।


 মহান বিজয় দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরনীয় দিন।দীর্ঘ নয় মাসের দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে বাঙ্গালী জাতির জীবনে এলো নতুন প্রভাত। এলো হাজার বছরের কাঙ্খিত স্বাধীনতা। বাঙালি জাতি অর্জন করলো তার ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের অধিকার।বিজয়ের ৫১বছর পেরিয়ে এবার আসছে ৫২তম বিজয় দিবস।

শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২২

বাগেরহাট জেলার পৌরসভা পরিচয় বিবরন সম্পূর্ণ ।

style="clear: both;">
স্টাফ রিপোর্টার--- খুলনা বিভাগের ---- বাগেরহাট জেলার পৌরসভা পরিচয়। বাগেরহাট-জেলা এক নজরে দেখে আসি বাগেরহাট জেলার, বাগেরহাট পৌরসভা। : বাগেরহাট পৌরসভা। শুরুতে ভূমিকা ঃ------ (ক).স্থাপনকাল: ১ এপ্রিল ১৯৫৮ খ্রিঃ (খ). নামকরণ: বাগেরহাট পৌরসভা (গ). পৌর পরিষদের বিবরণ : ১ ----মেয়র : ১জন ২. সংরক্ষিত কাউন্সিলর -৩ জন,৩. কাউন্সিলির-৯জন ৩.(ক) পৌরসভার শ্রেণী ও হওয়ার তারিখ: ১ম শ্রেণী,১২-০৫-১৯৯১ খ্রিঃ (খ)২য় শ্রেণী,১১-১১-১৯৯৩ খ্রিঃ (গ)৩য় শ্রেণী,২১-০১-১৯৭২ খ্রিঃ (গ) মহল্লা: ১৭টি (ঘ) আয়তন: ১৫.৮৮৮ বর্গ কিঃমিঃ (ঙ) লোকসংখ্যা: ৬৩,১১৭ জন পুরুষ ২.  ৬২,০৫৭ জন মহিলা ৩. মোট: ১,২৫,১৭৪ জন (ঙ) সড়কের পরিমাণ: মোট ১২৫.০০ কি.মি. (চ) ড্রেন: মোট - ৮২.০০ কি.মি. ৩. স্লাব যুক্ত - ২.৪০ কি.মি. (ছ) সড়ক বাতির সংখ্যা: মোট ৩৮৫০ টি *টিউব-১৫০০ টি, *বাল্ব-১৯৪১টি, *এনার্জি বাল্ব-৩০৯ টি, *সোডিয়াম-১১০টি *কন্ট্রোল সুইচ-১১টি, *মিটার-১১টি **** মাসিক ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিল-২,৮৬,৬৬২.০০ টাকা(প্রায়) (জ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা: মোট-৩৭ টি। (১). কলেজ-৪ টি, (২). মাধ্যমিক - ১১টি (৩). প্রাথমিক সরকারী বিদ্যালয় ১৪টি, (৪). বেসরকারি - ৯টি (৫). মাদ্রাসা - ৬ টি (ঝ) শিক্ষা হার : ৬৫% (ঞ) পার্ক/উদ্যানের সংখ্যা: মোট -৩টি ১. *** পার্ক - ২টি, ২. *** উদ্যান- ১ টি (ট) পানীয় জলের সরবরাহ: ১. প্রডাকশন টিউবওয়েল-৮টি(সাইজ-১৫০মি-মি* ৩৫০ মি.মি.) (২). ওভারহেড ট্যাংক-২টি ধারণ ক্ষমতা-৬৮০ ঘনমিটার প্রতিটি (৩). ভূ-পৃষ্ঠস্থ জলধারা-২টি,ধারণ ক্ষমতা-১১০০ ঘনমিটার (৪) পানি সরবরাহ পাইপ লাইন-৮৬.৫ কিমি (৫) নল বাহিত পানি সংযোগ মোট-৬১৩২ টি (৬) হস্তচালিত নলকূপের সংখ্যা- ২৮৯৬ টি ক. চালু-২৮৭৭ টি খ. অকেজো -১৯ টি (৭) স্ট্রীট হাইড্রেন্টের সংখ্যা-১৪৫ টি পানি সরবরাহের কভারেজ এলাকা ৫০% কভারেজ এলাকার চাহিদা-১০০% কভারেজ এলাকার সরবরাহ-৬০% (ঠ) হোল্ডিং সংখ্যা: মোট-৭৮৭০ টি (ক). সরকারী আবাসিক ৯৮ টি, (খ). প্রাইভেট বাণিজ্যিক ৯৫০, (গ). প্রাইভেট আবাসিক ৬৮২২ টি ২.১ : পৌরভবন/ঘরের বিবরণ : (ক) খতিয়ান ও দাগ নং-এস,এ : (১) খতিয়ান নং- ২৩৬, ২৭৪, ৪৮৪, (২). দাগ নং- ১৪৭৬, ১৪৭৫, ৪৭৯ (খ) অফিসসহ আঙ্গিনার জমির পরিমাণ : ০.৫৩৯০ একর (গ) পৌরসভার অন্যান্য সম্পত্তি: *পৌর পার্ক ১ টি, * ল্যান্ডিং ঘাট ২টি, * ঝাড়ুদার কলোনী-২টি (ঘ) মার্কেট: (ক)মার্কেট ৩ টি (৭২ টি দোকান) (খ),৪ টি চান্দিনা (৩৮ টি দোকান) (ঙ) নির্মাণ/মেরামতের তারিখ: মার্কেট ১৯৭২ খ্রিঃ,চান্দিনা-১৯৯৪ ও ১৯৯৮ খ্রিঃ (চ) পৌরসভা ভবনের প্রকৃতি: ১ টি দ্বিতল ও ২টি ত্রিতল (ছ) সীমানা প্রাচীর আছে কি-না : আছে। ২.৩  : যানবাহনের বিবরণ : (ক) গার্ভেজ ট্রাক: মোট-৬টি(৩টি অকেজো) (খ) জীপ গাড়ী: ১ টি (অকেজো) (গ) পিক-আপ গাড়ী: ১ টি (অকেজো) (ঘ) ট্রাক্টর ট্রলি: ১ টি (অকেজো) (ঙ) মটর সাইকেল: মোট ৭ টি(অকেজো ৪ টি) (চ) রোড রোলার: মোট ৬ টি(অকেজো ৩ টি) (ছ) ভেকুয়াম ট্যাংক- ১টি (জ) মিকছার মেশিন- ১টি (অকেজো) (ছ) এ্যাসকেভেটর- ১টি (ঝ) ড্রাম্প ট্রাক- ১টি (অকেজো) ৩. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা: মোট ৬৩ টি (ক). মসজিদ-৫৪ টি (খ). মন্দির- ১২ টি (গ). গীর্জা-০১ টি। ৪. ষ্টেডিয়াম-১টি। ৫. বাস টার্মিনাল-১টি ৬. ট্রাক স্ট্যান্ড-১টি ৭. প্রাইমারী স্কুলের সংখ্যা-১৪টি (সরকারী), ১টি (বে-সরকারী) ৮. মিল কারখানা-নারকেল তৈল উৎপাদন মিল-১০০টি(ছোট-বড় মিলিয়ে),অন্যান্য -১৪টি। ৯. ট্রেড লাইসেন্স: ৬,৫০০ টি*** ১০. আবাসিক হোটেল: ৭০ টি*** ১১. রেস্টুরেন্ট: ০২টি *** ১২. চাইনিজ থাই ও অন্যান্য-০২টি ** ১৩. কবরস্থান-২টি**** ১৪. শ্মশ্মানঘাট-১টি*** ১৫. খেলার মাঠ -৬টি*** ১৬. ক্লাব-৫টি*** ১৭. সংস্কৃতি সংগঠন- ৩টি*** ১৯. এনজিও- ২০ টি*** ২০. জেলা কারাগার-২টি)১টি পুরাতন+১টি নতুন) ২১.পশু হাসপাতাল-১টি *** ২২. জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ কেন্দ্র-১টি ২৩. টিকাদান কেন্দ্র: (ক) স্থায়ী -৩টি - ***১টি সদর হাসপাতাল ***২. মা ও শিশু পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ২৪. পিটিআই-প্রশিক্ষণ বিদ্যালয়- ১ টি ২৫. মেডিকেল স্কুল-১ টি ২৬. শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র- ১টি ২৭. ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার-২টি ২৮. কম্পিউটার কলেজ/ট্রেনিং সেন্টার-২ টি ২৯. কিন্ডার গার্ডেন- ১২ টি*** ৩০. লাইব্রেরী/গ্রন্থাগার - ২টি** ৩১. উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়/কেন্দ্র - ২টি** ৩২. ঈদগাহ- ৬টি** ৩৩. মক্তব- ৫টি** ৩৪. মাদ্রাসা(মহিলা)- ২টি** ৩৫. লেক-২টি** ৩৬. খেয়াঘাট- ৫টি** ৩৭. চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাট্রিজ- ১টি** ৩৮.ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ষ্টেশন- ১টি ** ৩৯. পুলিশ ফাঁড়ি- ২টি *** ৪০. রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট- ১টি ** ৪১.মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট-১টি ** ৪২. বস্তির সংখ্যা-৩টি ** *** ৪৩. মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট-১টি ৪৪. বিসিক শিল্প নগরী১টি-শিল্প কারখানার সংখ্যা-৪৪টি(প্রায়) ৪৫. পাবলিক টয়লেট- ৩টি ৪৬. অডিটোরিয়াম-৬টি ৪৭. কাঁচা বাজার-৩টি ৪৮. নিজস্ব পুকুর-৩টি ৪৯. সাপ্তাহিক হাট-২দিন(রবিবার,বুধবার) ৫০. হাসপাতাল-ক্লিনিক-মোট ২২টি **** ** সরকারী-১টি, ** বেসরকারি ক্লিনিক-১৭টি, ** মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র-বক্ষবেদী হাসপাতাল-১টি, ** ডায়াবেটিক হাসপাতাল-১টি, দাতব্য চিকিৎসালয়-১টি) ৫১.সার্কিট হাউজ- ১টি ৫২. ডাক বাংলো/রেস্ট হাউজ/গেস্ট হাউজ-১০টি ৫৩. শহীদ মিনার-৩টি ৫৪. মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ -১টি ৫৫. বিজয় স্মরণী -১টি ৫৬. মুক্তিযুদ্ধের বধ্যভূমি -২টি ৫৭. স্বাধীনতা উদ্যান- ১টি ৫৮. শিশু একাডেমী- ১টি ৫৯. ঐতিহাসিক মাজার- ৬টি ৬০. কমিউনিটি সেন্টার-৩টি ৬১. ব্যাংক/ব্যাংকের শাখা- ১৬টি ৬২. কর্মসংস্থান ব্যাংক-১টি ৬৩. যুব উন্নয়ন ব্যাংক,ব্রাক ব্যাংক,সমবায় ব্যাংক-৩টি ৬৪. সিনেমা হল - ২টি ৬৫. টেনিস লন - ১টি ৬৬. প্রেস ক্লাব-১টি ৬৭. ব্যামাগার-১টি ৬৮. পৌরসভা কয়টি ওয়ার্ডে বিভক্ত  :৯ টি বাগেরহাট জেলার সকল পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। আসসালামু আলাইকুম, আপনাদের ভালো লাগলে আমাদের পএিকার সাথে থাকবেন এবং নতুন নতুন অজানা তথ্য পাবেন।

Fashion

Sports