Breaking
Loading...
Menu
ad970

Videos

মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর, ২০২২

কলা চাষের সঠিক পদ্ধতি

ad300
Advertisement

 

কলা চাষের সঠিক পদ্ধতি
Proper method of banana cultivation

স্টাফ রিপোর্টার-মনির কৃষি 

কৃষি বিষয় সকল পরামর্শ তথ্য

কলা চাষ সঠিক পদ্ধতি
কলা একটি জনপ্রিয় খাবার।যাহা বাংলাদেশের সব স্থানে ও সবাই ভালবাসে। অন্য ফলের চেয়ে বাজারের ফলের মধ্যে একটা জনপ্রিয় খাবার।
কলা বাংলাদেশের সব জেলায়ই কম বেশি জন্মে। তবে পিরোজপুর,  নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, বগুড়া, যশোর, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ এসব জেলায় কলার ব্যাপক চাষ হয়।

বাংলাদেশে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে চেয়ে  কলার চাষ হয় যা থেকে বছরে ছয় লক্ষাধিক টন কলা পাওয়া যায়। কলা ভিটামিন ও খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ। অন্যান ফসলের তুলনায় কলায় ক্যালরির পরিমাণও বেশি । বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই কলার চাষ হয়ে থাকে। কলা কাঁচা অবস্থায় তরকারি হিসাবে এবং পাকা অবস্থায় ফল হিসাবে খাওয়া হয় । রোগীর পথ্য হিসাবে কলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ।

বাণিজ্যিক ভাবে বাংলাদেশে যেসব কলার জাত চাষ করা হয় সেগুলো হচ্ছে--
★অমৃতসাগর,
★সবরি,
★চাপা,
★মেহেরসাগর,
★কবরী ইত্যাদি । এ ছাড়াও কলার আরও অনেক জাত আছে যেমন :
★এঁটে কলা,
★ বাঙলা কলা,
★জাহাজি কলা,
★ কাচকলা বা আনাজি কলা ইত্যাদি ।
এ ছাড়া বাংলাদেশে উন্নত জাতের হাইব্রিড কলা এসেছে।
★ তবে বারি কলা-১,
★বারিকলা-২
★ও বারিকলা-৩ নামে তিনটি উন্নত জাত চাষের জন্য অবমুক্ত করা হয়েছে । এর মধ্যে
★বারিকলা-২ জাতটি কাঁচকলার ।

কলার উৎপাদন প্রযুক্তি ঃ
কলার উৎপাদন প্রযুক্তিগুলো হচ্ছে মাটি ও জমি তৈরি, রোপণের সময় ও চার রোপণ, সার প্রয়োগ পদ্ধতি, অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা ইত্যাদি ।

কলা চাষে মাটি ও জমি তৈরিঃ

উর্বর দোআঁশ মাটি কলা চাষের জন্য ভালো । জমিতে প্রচুর সূর্যের আলো পড়বে এবং পানি নিকাশের ব্যবস্থা থাকবে । গভীরভাবে জমি চাষ করে দুই মিটার দূরে দূরে ৫০ সেমি X ৫০ সেমি X ৫০ সেমি আকারের গর্ত খুঁড়তে হবে। চারা রোপণের প্রায় একমাস আগে গর্ত করে গর্তে গোবর ও টিএসপি সার দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে গর্ত পূর্ণ করতে হবে ।

কৃষিজ উৎপাদনঃ

কলা রোপণের সময় বছরে তিন মৌসুমে কলার চাষ করা হয় বা কলার চারা রোপণ করা হয় যথা-

১|আশ্বিন-কার্তিক

২। মাঘ-ফাল্গুন ৩। চৈত্র-বৈশাখ

কলার চারা নির্বাচনঃ

কলার চারাকে তেউড় বলা হয় । দুই রকমের তেউড় দেখা যায়।
১। অসি তেউড় ও
২। পানি তেউড়

১। অসি তেউড় : কলা চাষের জন্য অসি তেউড় উত্তম। অসি তেউড়ের পাতা সরু, সুচালো এবং অনেকটা তলোয়ারের মতো। গোড়ার দিকে মোটা এবং ক্রমশ উপরের দিকে সরু হতে থাকে ।

২। পানি তেউড় : পানি তেউড় দুর্বল । এর আগা-গোড়া সমান থাকে । কলা চাষের জন্য এই চারা উপযুক্ত নয় । এ দুই ধরনের চারা ছাড়াও সম্পূর্ণ মূলগ্রন্থি বা তার ক্ষুদ্র অংশ থেকেও কলা গাছের বংশবিস্তার সম্ভব । তবে এতে ফল আসতে কিছু বেশি সময় লাগে । ফলন্ত ও অফলন্ত দুই ধরনের গাছেরই মূলগ্রন্থি চারা হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে ।

চারা রোপণঃ
উন্নত জাতের কলা চাষের মধ্যে তাহা রোপনের পদ্ধতি ---
চারা রোপণের জন্য প্রথমত অসি তেউড় বা তলোয়ার তেউড় নির্বাচন করতে হবে। খাটো জাতের ৩৫-৪৫ সেমি আর লম্বা জাতের ৫০-৬০ সেমি দৈর্ঘ্যের তেউড় ব্যবহার করা হয়। অতঃপর নির্দিষ্ট গর্তে যাতে প্রয়োজনীয় গোবর ও টিএসপি সার দিয়ে পূর্ণ করা হয়েছে সেখানে চারা লাগাতে হবে । লক্ষ রাখতে হবে যেন চারার কাও মাটির ভিতরে না ঢুকে ।

সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ

কলা গাছে ব্যবহৃত সারের নাম ও গাছ প্রতি টি সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি উল্লেখ করা হলো :

গাছ প্রতি পরিমাণ

সারের নামঃ

ইউরিয়া ২৫০-৩০০ গ্রাম

টিএসপি ২৫০-৪০০ গ্রাম

এমওপি ৫০০-৬৫০ গ্রাম

প্রয়োগ করার সময়ঃ
চারা রোপণের ১ মাস পূর্বে গর্ত করে গোবর/ আবর্জনা সার ও ৫০% টিএসপি মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। রোপণের ২ মাস পর বাকি ৫০% টিএসপি ৫০% এমওপি ও ২৫% ইউরিয়া গাছের গোড়ার চারদিকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এর ২ মাস পর বাকি ৫০% এমওপি ও ৫০% ইউরিয়া এবং ফুল | আসার সময় বাকি ২৫% ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে ।

গোবর/আবর্জনা সার ১৫-২০ কেজি

সেচ ও নিকাশঃ

কলার জমিতে আর্দ্রতা না থাকলে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে । শুষ্ক মৌসুমে ১৫-২০ দিন পর পর সেচ দেওয়া দরকার । বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি নিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় নালা কেটে দিতে হবে। কারণ কলাগাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না।

অতিরিক্ত চারা কাটাঃ

ফুল বা মোচা আসার পূর্ব পর্যন্ত গাছের গোড়ায় যে তেউড় জন্মাবে তা কেটে ফেলতে হবে । মোচা আসার পর গাছ প্রতি ১টি তেউড় রাখা ভালো ।

খুঁটি দেওয়া পদ্ধতি সঠিক ভাবে।

কলাগাছে ছড়া আসার পর বাতাসে গাছ ভেঙে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাঁশ বা গাছের ডাল দিয়ে খুঁটি বেঁধে
দিতে হবে ।

পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা সঠিক পদ্ধতি ঃ

কলাগাছ ফল ও পাতার বিটল পোকা, রাইজম উইভিল, থ্রিপস এসব পোকা দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। ডায়াজিনন ৬০ ইসি পানির সাথে মিশিয়ে স্প্রে করে এ পোকা দমন করা যায় ।

রোগ ব্যবস্থাপনা ঃ

কলা ফল চাষের সময় প্রধানত তিনটি রোগের আক্রমণ দেখা যায়। যথা-

১। পানামা রোগ

২। সিগাটোগা

৩। গুচ্ছ মাথা রোগ ।

রোগ অনুযায়ী কৃষি অফিসার সাথে কথা বলে কীটনাশক  ওষুধের দোকান থেকে, ওষুধ এনে ব্যবহার করতে হবে।

"বেকারত্ব জীবন, কৃষি কাজে জীবন গড়"
লেখক -মনিরুল ইসলাম মুন্না

Share This
Previous Post
Next Post

Pellentesque vitae lectus in mauris sollicitudin ornare sit amet eget ligula. Donec pharetra, arcu eu consectetur semper, est nulla sodales risus, vel efficitur orci justo quis tellus. Phasellus sit amet est pharetra

0 Comments:

Fashion

Sports